শেষ কর্মদিবসে কর্মচারীকে বরখাস্ত করে গেলেন পৌর প্রশাসক!

সংবাদ সম্মেলনে ওসমান গণি
শেষ কর্মদিবসে নড়াইলের লোহাগড়া পৌরসভার এক চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তৎকালীন পৌর প্রশাসক সুস্মিতা সাহার বিরুদ্ধে। কোনো কারণ দর্শানোর নোটিস ছাড়াই তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি কর্মচারী ওসমান গণির।
এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার লক্ষীপাশা এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করে চাকরি ফিরে পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে ওসমান গণি জানান, তিনি গত ১০ বছর ধরে লোহাগড়া পৌরসভায় চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী হিসেবে কাজ করছেন। গত ২৬ জুলাই কোনো পূর্ব নোটিস বা কারণ দর্শানোর চিঠি ছাড়াই তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তৎকালীন পৌর প্রশাসক সুস্মিতা সাহার সই করা অব্যাহতির চিঠি ডাকযোগে তার কাছে পাঠানো হয়।
ওসমান গণি আরও জানান, পরদিন ২৭ জুলাই তিনি লোহাগড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসকের কার্যালয়ে শেষবারের মতো দায়িত্ব পালন করেন।
সুস্মিতা সাহা পড়ালেখার জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।
ওসমান গণির অভিযোগ, কোনো কারণ দর্শানোর নোটিস না দিয়েই তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অব্যাহতির চিঠিতে তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি নিয়মিত অফিসে আসতেন না, অফিসের কাজে তাকে পাওয়া যেত না এবং কর্মকর্তাদের আদেশ মানতেন না। তবে ওসমান গণির দাবি, তিনি নিয়মিত অফিসে হাজিরা দিয়েছেন এবং দায়িত্বও যথাযথভাবে পালন করেছেন। এর প্রমাণ হাজিরা খাতায় আছে।
তিনি বললেন, দায়িত্ব পালনে কোনো সমস্যা থাকলে কর্তৃপক্ষ নিয়ম অনুযায়ী তাকে মৌখিক বা লিখিতভাবে সতর্ক করতে পারত কিংবা কারণ দর্শানোর নোটিস দিতে পারত। কিন্তু এ ধরনের কোনো নোটিস না দিয়ে সরাসরি অব্যাহতির চিঠি দেওয়া হয়েছে।
ওসমান গণি আরও জানান, পৌরসভার ১০ জন চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীর মধ্যে সম্প্রতি ছয়জনের বেতন বাড়ানো হয়। বাকি চারজন নিয়মিত অফিস করেন না উল্লেখ করে তাদের বেতন বাড়ানো হয়নি।
তার দাবি, বাকি তিনজনের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে শুধু তাকে পরিকল্পিতভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এতে তার সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংসার চালাতে সমস্যায় পড়েছেন।
পৌর কমিটির সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত মাসিক সভায় তার চাকরিচ্যুতির বিষয়টি যথাযথভাবে আলোচনা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সভার কার্যবিবরণী, রেজুলেশন ও অন্যান্য নথি যাচাইয়ের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন।
ওসমান গণির অভিযোগ, তার চাকরিচ্যুতির পেছনে ষড়যন্ত্র রয়েছে। তিনি পৌরসভার প্রকৌশল শাখায় কাজ করার সময় পৌরসভার এক কার্যসহকারীর সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। ওই ব্যক্তিদের প্ররোচনায় তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
এ ছাড়া পৌরসভার কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর দায়িত্ব পালন, পদায়ন, আর্থিক লেনদেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন, বিল-ভাউচার ও নকশা অনুমোদনসহ বিভিন্ন বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেন ওসমান গণি। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে তার চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
লোহাগড়ার তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক সুস্মিতা সাহা মোবাইল ফোনে জানান, চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীকে অব্যাহতি দেওয়ার ক্ষমতা তার আছে। তবে ওসমান গণিকে কোনো কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো তথ্য দেননি।
লোহাগড়ার নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌরসভার বর্তমান প্রশাসক এস এম মুস্তাফিজুর রহমান জানান, ওসমান গণিকে চাকরি থেকে অব্যাহতির বিষয়টি তিনি শুনেছেন। বিধি বা নীতিমালা অনুযায়ী আপিলের সুযোগ থাকলে ওসমান গণি তা করতে পারবেন।





