মুন্সীগঞ্জ
তিন দিন পর বাড়ি ফিরল শিশু তোয়াবার মরদেহ

ছবি: আগামীর সময়
মুন্সীগঞ্জ মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে তিন দিন পর পরিবারের কাছে ফিরল পাঁচ বছরের শিশু তোয়াবার মরদেহ। ছোট্ট শিশুটির নিথর দেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজন ও প্রতিবেশীরা। একদিকে শিশুকন্যাকে হারানোর শোক, অন্যদিকে একই ঘটনায় বাবাকেও হারানোর বেদনা—পুরো পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
আজ শনিবার বিকেলে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সিরাজদিখান উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নের খাসকান্দি মোল্লাবাড়ি কবরস্থানে তোয়াবার দাফন সম্পন্ন হয়।
এদিকে শিশু তোয়াবা ও তার বাবা গোলাপ হোসেন হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রতিবেশী সোহরাব বেপারীকে (৬০) প্রধান আসামি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে দায়ের করা মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১২ থেকে ১৩ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) রতন বৈরাগী জানান, প্রতিবেশী সোহরাব বেপারীর সঙ্গে গোলাপ হোসেনের জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। মৃত্যুর আগে গোলাপ হোসেন জানিয়েছিলেন, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে সোহরাবের পাঠানো মুখোশধারী লোকজন তার ও মেয়ের ওপর হামলা চালিয়েছে। তবে সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে।
সিরাজদিখান থানার ওসি মো. আলাউদ্দিন জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে মামলাটি করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি সোহরাব বেপারীকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে সিরাজদিখান উপজেলার পাথরঘাটা এলাকায় মুখোশধারী একদল দুর্বৃত্তের হামলার শিকার হন গোলাপ হোসেন ও তার পাঁচ বছরের মেয়ে তোয়াবা। হামলাকারীরা শিশুটিকে গলা কেটে হত্যা করে ফেলে যায় এবং তার বাবা গোলাপ হোসেনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গুরুতর জখম করে।
পরদিন বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার রামকৃষ্ণদী গ্রামের মোল্লা ব্রিকস ইটভাটার পাশের একটি পরিত্যক্ত জমি থেকে তোয়াবার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
একই দিন বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বাবা গোলাপ হোসেন (৩৬)।




