অবহেলা-ভাঙচুরে জরাজীর্ণ মনোহরগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স

ছবি: আগামীর সময়
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে সরকারের বিপুল অর্থায়নে নির্মিত ‘মনোহরগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন’ চরম অবহেলা, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও দুর্বৃত্তদের কর্মকাণ্ডে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি সংরক্ষণ ও তাদের কল্যাণে নির্মিত ভবনটি উদ্বোধনের কয়েক বছরের মধ্যেই বেহাল অবস্থায় পৌঁছেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কুমিল্লা কার্যালয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়িত ভবনটি ২০২৩ সালের ২৬ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। তবে বর্তমানে ভবনের প্রবেশদ্বারে স্থাপিত মার্বেল পাথরের উদ্বোধনী ফলকটি কালো কালি দিয়ে বিকৃত করা হয়েছে। ফলকের চারপাশের অংশও ক্ষতিগ্রস্ত।
ভবনের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন তলার সুরক্ষামূলক লোহার গ্রিল ও জানালার কাচ ভাঙা। অনেক স্থানে জানালার অ্যালুমিনিয়ামের ফ্রেম আলগা হয়ে ঝুলছে, যা নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। নিয়মিত দেখভাল ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনের বাইরের দেয়ালে শেওলা জমেছে, বিভিন্ন স্থানে প্লাস্টার খসে পড়ছে এবং রঙের উজ্জ্বলতা নষ্ট হয়ে গেছে।
এ ছাড়া ভবনের চারপাশের সীমানাপ্রাচীর ও প্রবেশপথ ঘন বন-জঙ্গল এবং লতাপাতায় ঢেকে গেছে। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা না করায় পুরো এলাকাটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থা ও সংস্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে মনোহরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. কামাল উদ্দিন বলেছেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনটি এলজিইডির তত্ত্বাবধানে নির্মিত হলেও হস্তান্তরের পর নিয়মিত দেখভালের অভাবে ভবনের জানালার কাচ, গ্রিল ও সীমানাপ্রাচীর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা ভবনের বর্তমান ক্ষয়ক্ষতি সরেজমিনে পরিদর্শন করে একটি প্রাক্কলন তৈরি করছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ পাওয়ার পর দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।’
এ বিষয়ে মনোহরগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উম্মে সালমা বললেন, ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনটির জরাজীর্ণ অবস্থা নিরসন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিবিজড়িত এই গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা রক্ষায় আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করব।’
ভবনটির এমন বেহাল দশায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মনোহরগঞ্জ উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোখলেছুর রহমান মজুমদার বলেছেন, ‘যাদের রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে, সেই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে নির্মিত কমপ্লেক্সটির এমন দুরবস্থা দেখে আমাদের বুক ফেটে কান্না আসে। উদ্বোধনের কিছুদিনের মধ্যেই ভবনটি অবহেলা ও দুর্বৃত্তদের কর্মকাণ্ডে ধ্বংসের মুখে পড়েছে। আমরা অবিলম্বে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং দ্রুত ভবনটি সংস্কার করে এর নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।’
এদিকে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনাটি অবহেলায় নষ্ট হতে না দিয়ে দ্রুত সংস্কার, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যবহারের উপযোগী করে ভবনটি পুরোপুরি সচল করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা।




