দিনাজপুরে কোরবানির হাটে মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি

ছবি: আগামীর সময়
ঈদুল আজহা সামনে রেখে দিনাজপুরের পশুর হাটগুলোতে জমে উঠেছে কেনাবেচা। জেলার ১৩ উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে ৬৮টি স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাটে এখন সবচেয়ে বেশি চাহিদা মাঝারি ও ছোট আকারের গরুর।
আজ রবিবার সকালে পার্বতীপুর উপজেলার যশাই পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড় বাড়তে থাকে। আজ সকাল ১০টার পর পুরোদমে শুরু হয় কেনাবেচা। ক্রেতাদের দরদাম আর বিক্রেতাদের হাঁকডাকে মুখর হয়ে ওঠে পুরো হাট।
হাটে ছোট জাতের গরু বিক্রি হচ্ছে ৫৫ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকায়। মাঝারি গরুর দাম হাঁকা হচ্ছে ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত। অন্যদিকে বড় গরুর দাম চাওয়া হচ্ছে ১ লাখ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত।
ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা জানিয়েছেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এবার ভাগে কোরবানি দেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। ফলে বড় গরুর তুলনায় মাঝারিসহ চাহিদা বেশি দেখা যাচ্ছে ছোট গরুর।
গরু কিনতে আসা হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, একার পক্ষে এখন গরু কোরবানি দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই সাত ভাগে ৮০ হাজার টাকায় কিনেছেন একটি গরু। তার মতে, গত বছরের তুলনায় এবার গরুর দাম কিছুটা বেশি।
গরু ব্যবসায়ী মোসাদ্দেক আলী জানিয়েছেন, গোখাদ্যের দাম বাড়ায় কঠিন হয়ে পড়েছে লাভ করা। ক্রেতারা মূলত ছোট ও মাঝারি গরু কিনছেন, তাই চাহিদা বেশি এসব গরুর।
যশাই হাটের ইজারাদার জয়নাল আবেদিন জানিয়েছেন, গতবারের তুলনায় এবার হাটে পশুর আমদানি ও উপস্থিতি বেশি ক্রেতার। আজ সকাল থেকেই ভালো বেচাকেনা হচ্ছে। মাঝারি গরুর চাহিদাই সবচেয়ে বেশি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার দিনাজপুরে কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ২ লাখ ৭৩ হাজার ২৬২টি। এর বিপরীতে প্রস্তুত রয়েছে ৪ লাখ ২৬ হাজার ২৩টি পশু। ফলে চাহিদা মিটিয়ে প্রায় ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৬১টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুর রহিম জানিয়েছেন, পশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও হাটের সার্বিক নিরাপত্তায় নেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা। জেলার ৬৮টি পশুর হাটে কাজ করছে ৩৮টি বিশেষ মেডিকেল টিম। নিয়মিত পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছে তারা।






