আর কি আলো ছড়াবে না কুলাউড়া পাবলিক লাইব্রেরি!

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার একমাত্র পাবলিক লাইব্রেরি দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে অচল হয়ে পড়ে আছে। যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে লাইব্রেরির আসবাবপত্র, দুর্লভ বই ও গুরুত্বপূর্ণ পত্রপত্রিকার অধিকাংশই হারিয়ে গেছে বা নষ্ট হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় লাইব্রেরিটি পুনরায় চালুর দাবি উঠেছে স্থানীয় সচেতন মহলের পক্ষ থেকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুলাউড়া শহরের ডাকবাংলার একটি কক্ষে ১৯৮৪ সালের ২৬ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে কুলাউড়া পাবলিক লাইব্রেরি। তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিরাজুল হক এর উদ্বোধন করেন। পরে ডাকবাংলা মাঠের দক্ষিণ পাশে একটি টিনশেড ভবনে লাইব্রেরির কার্যক্রম পরিচালিত হতো।
সচল অবস্থায় লাইব্রেরিটিতে প্রায় ১০ হাজার বইয়ের সংগ্রহ ছিল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাপতিত্বে পরিচালনা কমিটি গঠিত হতো এবং একজন গ্রন্থাগারিক ও একজন সহকারী গ্রন্থাগারিক পাঠকার্যক্রম পরিচালনা করতেন। উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা ও পাঠকদের মাসিক চাঁদার মাধ্যমে লাইব্রেরির ব্যয় নির্বাহ করা হতো।
লাইব্রেরির সাবেক গ্রন্থাগারিক অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. খুরশিদ উল্লাহ জানান, তিনি ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত গ্রন্থাগারিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার সঙ্গে সহকারী গ্রন্থাগারিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. শামসুদ্দিন। পরবর্তীতে শামসুদ্দিন গ্রন্থাগারিকের দায়িত্ব নেন। ২০১৭ সালে তার মৃত্যুর পর লাইব্রেরির কার্যক্রম ধীরে ধীরে স্থবির হয়ে পড়ে।
বছর কয়েক আগে নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনায় পুরোনো টিনশেড ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়। তবে নতুন ভবন নির্মাণ না হওয়ায় এবং সংরক্ষণের অভাবে লাইব্রেরির আসবাবপত্র ও মূল্যবান বইপত্র নষ্ট হয়ে যায়।
লাইব্রেরির সাবেক সদস্য ও মুরারিচাঁদ কলেজ-এর অধ্যাপক মো. গিয়াস উদ্দিন বাবলু বলেছেন, কুলাউড়া পাবলিক লাইব্রেরি ছিল এলাকার বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার অন্যতম কেন্দ্র। অনেক দুর্লভ ও মানসম্মত বই সেখানে সংরক্ষিত ছিল। শিক্ষার্থী ও পাঠকদের নিয়মিত পদচারণায় মুখর থাকত লাইব্রেরি প্রাঙ্গণ।
অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ, লেখক ও গবেষক ড. মো. আব্দুর রকিব মন্তব্য করেন, একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে লাইব্রেরির ভূমিকা অপরিসীম। সংশ্লিষ্টদের অবহেলায় কুলাউড়ার একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি আজ প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
তবে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে লাইব্রেরিটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় সংগঠন স্রোত সাহিত্য পর্ষদ। সংগঠনটির আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম ইমন জানান, গত ২৫ এপ্রিল বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং পৌর প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।
তার ভাষ্য, পূর্ববর্তী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. মহিউদ্দিন বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। তবে বদলিজনিত কারণে তিনি দায়িত্ব ছেড়ে যাওয়ার পর কার্যক্রম এগোয়নি। এখন নতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক সানজিদা আক্তারের সহযোগিতায় ডাকবাংলার পূর্ব পাশে অবস্থিত একটি পরিত্যক্ত কক্ষে অস্থায়ীভাবে লাইব্রেরি চালুর চেষ্টা করা হবে।
বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক সানজিদা আক্তার বলেছেন, তিনি সম্প্রতি কুলাউড়ায় যোগদান করেছেন এবং বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত অবগত নন। তবে কুলাউড়া পাবলিক লাইব্রেরি পুনরায় চালুর উদ্যোগে উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।





