মনোবাসনা পূরণে চড়ক পূজায় পুণ্যার্থীর ঢল

স্থানীয় মন্দিরের পাশের পুকুর থেকে উত্তোলন করা হচ্ছে চড়ক গাছ। ছবি: আগামীর সময়
পাবনার চাটমোহর উপজেলার বোঁথড় গ্রামে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। বোঁথড় মহাদেব মন্দিরের পাশের পুকুর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে চড়ক গাছ। এরপর মহাদেবের মূর্তি স্থাপনের মাধ্যমে শুরু হবে চড়ক পূজার মূল আয়োজন। মনোবাসনা পূরণে দেশ-বিদেশ থেকে জড়ো হয়েছেন পুণ্যার্থীরা।
চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে তিনদিন ব্যাপী আয়োজিত এ চড়ক পূজা ও মেলা শুরু হয়েছে আজ। চলবে বুধবার পর্যন্ত।
এই উৎসবকে কেন্দ্র করে সনাতন সম্প্রদায়ের প্রায় প্রতিটি বাড়িতে চলছে অতিথি আপ্যায়ন।
ঐতিহ্যবাহী এই পূজা ও মেলার সঠিক ইতিহাস নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে। অনেকের ধারণা সিন্ধু সভ্যতা থেকেই এর প্রচলন। আবার জনশ্রুতি আছে, এই পূজা ও মেলার শুরু হয়েছে বান রাজার আমল থেকে।
একসময় পুরো বৈশাখ মাসজুড়ে চলত এই মেলা। মেলা শুরুর মাস দেড়েক আগে থেকেই বোঁথড় গ্রামে পড়ে যেত সাজ সাজ রব। দূর-দূরান্ত থেকে আসা দোকানিদের পসরা, যাত্রা, সার্কাস, নাগরদোলা, যাদু প্রদর্শনী আর পুতুল নাচে উৎসবমুখর হয়ে উঠত গোটা অঞ্চল। কালের বিবর্তনে কিছুটা কমেছে মেলার সেই জৌলুস ও জাঁকজমক।
চড়ক গাছ, পাঠ ঠাকুর ও বিগ্রহ মন্দিরকে কেন্দ্র করে টিকে আছে এই আয়োজন। তবে সব ধর্মের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সম্প্রীতির সেই চেনা রূপটি এখন কিছুটা ম্লান।
এবারের আয়োজন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে মেলা পরিচালনা কমিটি।
গ্রামের বাসিন্দা রনি রায় জানান, পুণ্যার্থীদের কেউ দেন পাঁঠাবলি, কেউবা উৎসর্গ করেন, কবুতর। কেউ পূজার অর্ঘ্য সাজানো চালনি মাথায় নিয়ে মন্দিরের চারপাশে সাতপাক ঘোরেন।
আয়োজনটি সফল করতে সবার সহযোগিতা চেয়েছেন বোঁথড় মহাদেব মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক কিংকর কুমার সাহা।
















