শরীয়তপুরে জুলাইযোদ্ধাদের মারধর বিএনপি নেতার

জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তির আয়োজন থেকে বের করে দেওয়া হয় জুলাই যোদ্ধাকে। ছবি: আগামীর সময়
শরীয়তপুরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জুলাইযোদ্ধা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতাকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ টিপু মাদবরের বিরুদ্ধে উঠেছে এই অভিযোগ।
আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শরীয়তপুর পৌরসভা অডিটরিয়ামে এ ঘটনা ঘটে। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে চলছিল শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। সেখানে জুলাইযোদ্ধা জাকির হোসেন মিন্টু (আদর) ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক ইমরান আল নাজিরকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার ভিডিও ছড়িয়েছে ফেসবুকে।
তাতে দেখা গেছে, অনুষ্ঠান চলাকালে জাকির হোসেন ও ইমরান আল নাজিরকে মারধর করে সেখান থেকে বের করে দেন বিএনপি নেতা মাহবুব।
জাকির বললেন, ‘আমরা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে থেকেই তারা হট্টগোল শুরু করেছে। তারা বলেছে, শরীয়তপুরে কোনো জুলাইযোদ্ধা নাই। এখানে কোনো আন্দোলন হয়নি। পরে আমি ভেতরে গেলে আমাকে দেখে বলে, তুই কে! এই কথা বলেই আমার উপর হামলা করে। আমাকে মারতে মারতে বের করে দিয়েছে। আমি মাথায় আঘাত পেয়েছি।’
বৈষম্যবিরোধীর সাবেক নেতা ইমরানের ভাষ্য, ‘আমরা জেলা প্রশাসকের দাওয়াতে রাষ্ট্রীয় প্রোগ্রামে এসেছি। আসার পরপরই সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক টিপু মাদবরসহ বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী মিলে আমাদের মারতে মারতে অনুষ্ঠান থেকে বের করে দেয়। আমরা প্রশাসনকে নীরব দেখেছি। তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। প্রশাসন তো আর বিএনপি করে না। আমরা আল্লাহর কাছে বিচার দিয়ে গেলাম।’
মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। তাদের কথা, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে ওই দুজন কটুক্তি করেন। এ নিয়ে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাদের বের করে দেওয়া হয়।
উপজেলা বিএনপি নেতা মাহবুব মোর্শেদ বললেন, ‘৫ আগস্টের সবচেয়ে বড় অবদান বিএনপির। জামায়াতের আমির নিজে স্বীকৃতি দিয়েছেন যে, তারেক রহমানের নেতৃত্বেই জুলাই আন্দোলন হয়েছিল। সেই তারেক রহমানের পরিবারকে নিয়ে ইমরান আল নাজিরসহ শরীয়তপুরের এনসিপির নেতাকর্মীরা প্রতিনিয়ত লেখালেখি করে। আজকেও তাদের নিয়ে কটুক্তি করেছেন। এর প্রতিবাদ করায় তাদের সঙ্গে কথাকাটাকাটি হয়।’
এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. তানভির হোসেন।
জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বললেন, ‘অনুষ্ঠান চলাকালে কোনো ঘটনা ঘটেনি। হয়তো এর আগে ঘটতে পারে। পুরো প্রোগ্রামটি আমরা সব জুলাইযোদ্ধাকে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ করেছি। এ বিষয়ে আমি এখনো অবগত নই। পুরো ঘটনা জেনে বলতে পারব।’









