লিবিয়ায় জিম্মি করে ২৫ লাখ টাকা আদায়, দেশে ফিরেও হামলার শিকার প্রবাসী

নোয়াখালীর চাটখিলে ইতালি প্রবাসী মো. সোলায়মানকে অস্ত্রের মুখে হামলা, নির্যাতন ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ফারুক, আজাদ ও শাহপরান মানবপাচার চক্রের সদস্য বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে পরিবারটি।
আজ শুক্রবার সকালে উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের শংকুর গ্রামে সোলায়মানের নিজ বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সোলায়মানের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস অভিযোগ করেন, ইতালি নেওয়ার কথা বলে ২০২৩ সালে তার স্বামীকে লিবিয়ায় আটকে রাখে মানবপাচারকারী চক্র। এ সময় প্রবাসী ফারুকের সহযোগীরা স্থানীয় আজাদ ও শাহপরানের যোগসাজশে তাকে জিম্মি করে নির্যাতন চালায়। কয়েক ধাপে তার কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা আদায় করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আজাদ নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
জান্নাতুল ফেরদৌস আরও অভিযোগ করেন, পরে অন্য মাধ্যমে ইতালি গিয়ে গত মাসে দেশে ফেরেন সোলায়মান। দেশে ফেরার পর গত ২৯ আগস্ট সন্ধ্যায় উপজেলার খিলপাড়া বাজারের যুবরত্ন ক্লাবের সামনে তার ওপর অস্ত্রের মুখে হামলা ও নির্যাতন চালানো হয়। এ সময় তার স্বামীর স্বর্ণের চেইন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি চাঁদা দাবি করা হয়। প্রাণভয়ে পরে সোলায়মান দেশ ছেড়ে ইতালি চলে যান। বর্তমানে পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানান। একই সঙ্গে পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
এ সময় সোলায়মানের বোন মোবাশারা বেগম সোহাগী ও মেয়ে নাবিলা সুলতানা নোবা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে শাহপরানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মোন্নাফ জানিয়েছেন, প্রবাসীর ওপর হামলা, চাঁদা দাবি এবং ২০২৩ সালে বিদেশে আটকে রেখে টাকা আদায়ের ঘটনায় মানবপাচার আইনে মামলা হয়েছে। ওই মামলার আসামিদের মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চার আসামি হাইকোর্ট থেকে জামিনে রয়েছেন এবং আরেক আসামি আত্মগোপনে আছেন। তদন্ত করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




