টেকনাফ
মহিষ আনতে গিয়ে নিখোঁজ, এক দিন পর ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নে আবারও এক শিশুকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। মহিষ আনতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার এক দিন পর দুর্বৃত্তরা পরিবারের কাছে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।
সম্প্রতি একই এলাকায় একের পর এক অপহরণের ঘটনায় সীমান্ত জনপদে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকালে বাহারছড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর নয়াপাড়া এলাকায় পাহাড়ের পাদদেশে এ ঘটনা ঘটে। অপহৃত শিশু আরাফাত (১২) এলাকার বাসিন্দা আবদুল মাবুদের ছেলে।
অপহৃত শিশুর বাবা আবদুল মাবুদ জানিয়েছেন, শুক্রবার বিকালে তার ছেলে মহিষ আনতে বাড়ি থেকে বের হয়। সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতদের কাছে খোঁজাখুঁজি করা হয়। কিন্তু কোথাও তার সন্ধান মেলেনি।
তার ভাষ্য, শনিবার বিকালে এক পরিচিত ব্যক্তির মোবাইল ফোনে কল করে দুর্বৃত্তরা ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা না দিলে ছেলেকে ফিরে পাওয়া যাবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বললেন, আমি একজন সাধারণ মানুষ। এত টাকা দেওয়ার সামর্থ্য আমার নেই। আমার ছেলেকে জীবিত উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি সহযোগিতা চাই।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘটনার পেছনে পারিবারিক বিরোধের জের থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের দাবি, পূর্বের শত্রুতার ধারাবাহিকতায় পরিকল্পিতভাবে শিশুটিকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
তাদের অভিযোগ, বাহারছড়া ইউনিয়নসহ টেকনাফের সীমান্তবর্তী এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে অপহরণের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। ফলে পাহাড়ঘেঁষা জনপদে বসবাসকারী মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এর আগে গত ২৮ জুন একই ইউনিয়নের জুম্মাপাড়া এলাকা থেকে দিনের বেলায় অস্ত্রধারীরা পল্লী চিকিৎসক কামাল মাস্টারকে অপহরণ করে।
পরিবারের দাবি, আট দিন পর গত ৬ জুলাই রাতে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণের বিনিময়ে মৌচনী এলাকায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। অপহরণকারীদের নির্যাতনের কারণে তিনি এখনো অসুস্থ রয়েছেন।
একের পর এক অপহরণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়লেও কার্যকর অভিযান না হওয়ায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেছেন, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে শিশুটিকে উদ্ধারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।





