নারায়ণগঞ্জে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে শেষ একটি পরিবার

নারায়ণগঞ্জে একটি বাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ— সংগৃহীত
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ একই পরিবারের সবাই মারা গেছেন। বাবা, মা ও ভাইয়ের মৃত্যুর পর এবার মারা গেছে পরিবারের ১৩ বছর বয়সী শিশু মিম।
গতকাল সোমবার রাত দেড়টার দিকে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চার জনে।
আজ মঙ্গলবার মিমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান।
তিনি জানান, আইসিইউর ১৪ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন মিমের শরীরের ৫১ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল এবং তার শ্বাসনালী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। চিকিৎসকদের সর্বাত্মক চেষ্টা সত্ত্বেও সোমবার রাতে সে মারা যায়।
স্বজনরা জানান, নিহতদের মরদেহ কুমিল্লার গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়েছে।
গত ১১ জুন সকালে বন্দর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের চানপুর এলাকার একটি বাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় পরিবারের চার সদস্য ও প্রতিবেশী এক শিশু দগ্ধ হয়।
চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, সুলতানার শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ, সিয়ামের ৭৭ শতাংশ, আব্দুল মান্নানের ৩৫ শতাংশ এবং মিমের ৫১ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।
এ ঘটনায় আহত প্রতিবেশী শিশু হযরত আলী (৮) শরীরের ৮ শতাংশ দগ্ধ হয়ে বর্তমানে চিকিৎসাধীন।
ঘটনার পর কাঁচপুর ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার জাহাঙ্গীর আলম জানান, বাড়িটিতে তিতাস গ্যাসের সংযোগের পাশাপাশি এলপিজি সিলিন্ডারও ব্যবহার করা হতো। ধারণা করা হচ্ছে, রাতে রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাসে সকালে আগুন জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটে। তবে গ্যাস লিকেজের প্রকৃত উৎস তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।





