কাঁচাই রয়ে গেল হিঙ্গলকান্দি-ধর্মপুর সড়কটি

বর্ষা এলেই তলিয়ে যায় নওগাঁর আত্রাই উপজেলার হিঙ্গলকান্দি-ধর্মপুর সড়ক। ছবি: আগামীর সময়
বর্ষা এলেই পানিতে তলিয়ে যায় নওগাঁর আত্রাই উপজেলার হিঙ্গলকান্দি-ধর্মপুর সড়ক। কাঁচা এই সড়কে কাদা ও পানি জমে থাকায় চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি পাকা করার দাবি জানিয়ে এলেও এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি। এতে শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে।
উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আত্রাইয়ে মোট ৩৫৮ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ১৭৬ দশমিক ৯৬ কিলোমিটার পাকা। এ ছাড়া ৪১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার হেরিং বোন বন্ড, ৪ দশমিক ৯৯ কিলোমিটার কংক্রিট এবং ২ দশমিক ৪২ কিলোমিটার ইউনিব্লক সড়ক রয়েছে। বাকি ১৩২ দশমিক ৪৭ কিলোমিটার সড়ক এখনো মাটির।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আত্রাই-সিংড়া পাকা সড়কের ভাঙ্গাজাঙ্গাল বাজার থেকে বিশা পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার, পতিসর-সমসপাড়া সড়কের হিঙ্গলকান্দি বাজার মোড় থেকে ধর্মপুর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার, ছোটডাঙ্গা সেতুর উত্তর পাশ থেকে ঝনঝনিয়া পর্যন্ত প্রায় পৌনে ২ কিলোমিটার এবং ছোটডাঙ্গা বাজার থেকে তারাটিয়া পর্যন্ত সোয়া ১ কিলোমিটার সড়ক এখনো কাঁচা। এ ছাড়া হাটকালুপাড়ার জামালের বাড়ি থেকে চকশিমলা উত্তরপাড়া পুরাতন জামে মসজিদ, চকবাজার থেকে গাঙ্গের ধার এবং পারকাসুন্দা-বিলগলিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় কাঁচা সড়ক রয়েছে।
বিশা উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জামাল উদ্দীন শেখ জানিয়েছেন, ভাঙ্গাজাঙ্গাল থেকে বিশা স্কুল পর্যন্ত মাটির সড়কটি পাকা করার কথা গত ৪০ বছর ধরে শুনছেন তারা। কিন্তু এখনো সড়কটি পাকা হয়নি। পাঁচ থেকে সাতটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ এ সড়ক দিয়ে চলাচল করেন। বর্ষায় সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটুপানি ও কাদায় সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে শিক্ষার্থী, গর্ভবতী নারী, অসুস্থ রোগী ও কৃষকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
লালপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মকলেছুর রহমান জানিয়েছেন, হিঙ্গলকান্দি মোড় থেকে ধর্মপুর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে মোড় থেকে আধা কিলোমিটার পাকা করা হয়েছে। বাকি অংশ এখনো কাঁচা। কয়েকবার এলাকাবাসী উদ্যোগ নিলেও পুরো সড়কটি পাকা করা হয়নি।
আত্রাই উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী নিতীষ কুমার জানিয়েছেন, জনদুর্ভোগ বেশি এমন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পাকাকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। একনেক সভায় প্রকল্প অনুমোদন ও বরাদ্দ পাওয়া গেলে কাজ শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে উপজেলার সব সড়ক পাকা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।




