রাস্তা নেই, নৌকাই ভরসা
- ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যাতায়াত দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর

বর্ষা এলেই ডুবে যায় সড়কটি। কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও কাদা ও বড় বড় গর্ত। হেঁটে তো দূরের কথা, কোনো যানবাহন নিয়েও চলাচল করা কঠিন। তখন দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়ে যাতায়াতের একমাত্র ভরসা হয়ে ওঠে ছোট একটি ডিঙি নৌকা। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেই নৌকায় চড়ে স্কুলে যেতে হয় তাদের।
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ-পূর্ব গোলখালী গ্রামের চিত্র এটি। সেখানে পাশাপাশি রয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব গোলখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দক্ষিণ-পূর্ব গোলখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়। দুই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী প্রায় ৬০০। আশপাশের চার গ্রামের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে এসব বিদ্যালয়ে। স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যালয় দুটির যোগাযোগব্যবস্থা নাজুক। বিশেষ করে বর্ষায় অচল হয়ে পড়ে দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ কাঁচা সড়কটি। তখন অভিভাবকদের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের পারাপারের জন্য একটি ছোট নৌকা ও মাঝির ব্যবস্থা করতে হয় প্রতি বছর।
প্রতিদিন নৌকায় যাতায়াতের জন্য শিক্ষার্থীপ্রতি খরচ হয় ২০ টাকা। দরিদ্র পরিবারের জন্য এই বাড়তি খরচও কষ্টকর। মাঝি অসুস্থ হলে বা কোনো কারণে নৌকা না চললে সেদিন বিদ্যালয়ে যেতে পারে না অনেক শিক্ষার্থী। কখনো ঝুঁকি নিয়ে নৌকা চালাতে হয় বড় শ্রেণির শিক্ষার্থীদেরই।
অভিভাবক সুমন প্যাদা বললেন, ‘সন্তানকে নৌকায় তুলে দেওয়ার পর সে নিরাপদে স্কুলে পৌঁছেছে কি না, আবার বাড়ি ফিরেছে কি না, তা নিয়ে সারাক্ষণ দুশ্চিন্তায় থাকি। আমরা এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চাই।’
দক্ষিণ-পূর্ব গোলখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরিয়ান হোসেন, ইব্রাহিম, জসিম উদ্দিন ও আদিন হোসেন জানায়, বর্ষায় ছোট নৌকায় যাতায়াত করতে ভয় লাগে। তাদের দাবি, দ্রুত একটি পাকা রাস্তা নির্মাণ করা হোক।
শুধু দক্ষিণ-পূর্ব গোলখালী নয়, উত্তর-পূর্ব ও পূর্ব গোলখালী গ্রামের শিক্ষার্থীরাও একই সমস্যায় পড়ে। বর্ষায় ওই দুই গ্রামের কাঁচা সড়কও হয়ে যায় চলাচলের অনুপযোগী।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক বললেন, ‘সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি দেখব। বাস্তব অবস্থা দেখে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে সমস্যার সমাধানে সর্বাত্মক চেষ্টা করব।’






