নিরাপত্তা নিশ্চয়তায় শেবাচিমে কাজে ফিরেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা

সংগৃহীত ছবি
রোগী মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বজনদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় কর্মবিরতিতে থাকা বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) ইন্টার্ন চিকিৎসকরা সেবায় ফিরেছেন। সোমবার (২৫ মে) দুপুরের পর থেকে তারা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে হাসপাতালে দায়িত্ব পালন শুরু করেন।
ইন্টার্ন চিকিৎসক তানভীর রেজা জানিয়েছেন, মানবিক কারণে তারা চিকিৎসাসেবায় ফিরেছেন। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতালের প্রতিটি ইউনিটে তিনজন করে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের একটি টহল টিম হাসপাতালের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবে এবং বিভিন্ন ইউনিটে নিয়মিত টহল দেবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি আগামী ৩১ মে প্রতিবেদন জমা দেবে। এরপর জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এর আগে শনিবার রাতে পটুয়াখালীর হেতালিয়া বাঁধঘাট এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমানের মৃত্যু ঘিরে হাসপাতালে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকালে গলাচিপায় জানাজা শেষে ফেরার পথে তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মৃতের ছোট ভাই রুবেল হাওলাদার অভিযোগ করেন, রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দায়িত্বরত নার্সদের একাধিকবার ডাকলেও তারা সাড়া দেননি। পরে রোগীর মৃত্যু হলে স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও হাসপাতাল স্টাফদের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এ সময় সরকারি বিএম কলেজের শিক্ষার্থী নাহিদ সরোয়ারকে আটকে রাখার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা হাসপাতালে জড়ো হন। অন্যদিকে ইন্টার্ন চিকিৎসকরাও অবস্থান নিলে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
ঘটনার পর নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা, হাসপাতালে বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণসহ কয়েকটি দাবিতে রোববার সকাল ৯টা থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।






