রাত পোহালেই ঈদ, অবিক্রিত ‘সাদা ও কালো পাহাড়’

খুলনার জোড়াগেটে সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত পশুর হাটে ‘সাদা পাহাড়’ ও ‘কালো পাহাড়’ নামে দুটি গরু আনা হয়েছে। সাদা পাহাড়ের দাম ৮ লাখ টাকা এবং কালো পাহাড়ের দাম সাড়ে ৭ লাখ টাকা হাঁকানো হচ্ছে। তিন দিন আগে গরু দুটি নিয়ে আসেন খুলনা জেলার তেরখাদার খামারী ইকবাল হোসেন। কিন্তু এখনো গরু দুটি বিক্রি করতে পারেননি।
তিনি জানান, চড়া দামে খাদ্য ও ওষুধ কিনে গরু দুটি লালন-পালন করা হয়েছে। প্রতিদিন গরু দুটির পেছনে অন্তত ৩ হাজার টাকা খরচ হয়। অথচ হাটে বড় গরুর ক্রেতা নেই। তিন দিন পার হলেও কেউ দামই বলেনি।
বুধবার হাটে গিয়ে দেখা যায়, চাহিদার তুলনায় গরুর সংখ্যা বেশি উঠেছে। হাটে ছোট আকারের গরুর চাহিদা বেশি, বিশেষ করে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দামের গরুর। বড় আকারের গরু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বিক্রেতারা। তবে দাম নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের মধ্যেই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ রয়েছে। বিক্রেতাদের দাবি, ক্রেতারা দাম কম বলছেন। অন্যদিকে ক্রেতাদের দাবি, বিক্রেতারা বেশি দাম চাইছেন।
হাটে দুটি বড় গরু তুলেছেন নড়াইলের খামারী জিয়াউর রহমান। দুটি গরুর মধ্যে একটির দাম চাচ্ছেন ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং অন্যটির ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। তিনি জানান, হাটে এসব গরুর ক্রেতা নেই বললেই চলে। হাটের সময় শেষের দিকে হলেও এখনও একটি গরুও বিক্রি করতে পারেননি। দু– একজন দাম বললেও তা প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম। ওই দামে বিক্রি করলে লোকসান হবে। গরুর খাদ্য ও ওষুধের দাম অনেক বেশি। প্রতিদিন একটি গরুর পেছনে গড়ে ৮০০ টাকা খরচ হয়।
ডুমুরিয়ার গৌরিঘোনা এলাকা থেকে একটি গরু এনেছেন দুলাল মোড়ল। গরুটির দাম হাঁকাচ্ছেন ৭ লাখ টাকা। তিনি জানান, গরুটি লালন-পালনে (খাবার ও ওষুধে) প্রতিদিন গড়ে ৭০০–৮০০ টাকা খরচ হয়। তাই ৫ লাখ টাকার নিচে বিক্রি করলে লোকসান হবে। এই দামে বিক্রি না হলে তিনি গরুটি বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যাবেন।
করপোরেশনের আইটি ম্যানেজার শেখ হাসান হাসিবুর হক জানিয়েছেন, বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত হাটে ১ হাজার ৫৮৮টি ছাগল, ৩ হাজার ৫৯৫টি গরু এবং ৮৯টি ভেড়া বিক্রি হয়েছে। এ বাবদ হাসিল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৭৮ লাখ ৪ হাজার ৯৬৮ টাকা।
গত বছর সাত দিনে এ হাটে ৬ হাজার ৬৫১টি পশু বিক্রি হয়। সেখান থেকে হাসিল হিসেবে দুই কোটি সাত লাখ টাকা আয় করে খুলনা সিটি কর্পোরেশন।






