Agamir Somoy E-Paper
মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
রোগীর জন্য রক্ত সংগ্রহে ছোটেন আইয়ুব
মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

advertiseadvertise
আগামীর সময় সারা দেশ

গাজীপুর

৩০ দিনে ৩০ খুন

  • স্থানীয় বাসিন্দা ৩৮ শতাংশ, বাকিরা বহিরাগত
  • ঘনবসতিতে অপরাধীদের আত্মগোপনের সুযোগ
  • অধিকাংশ ঘটনাই বিআরটি প্রকল্প এলাকায়
  • আতঙ্কিত এলাকাবাসীর চাওয়া পুলিশের কঠোর অবস্থান
মো. আমিনুল ইসলাম, গাজীপুর
agamir somoy
প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ২৩:১৩
৩০ দিনে ৩০ খুন

গ্রাফিকস: আগামীর সময়

গাজীপুরে মাদক, ছিনতাই, ডাকাতি, পারিবারিক দ্বন্দ্ব, দাম্পত্য কলহ এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হত্যাকাণ্ড। এর পাশাপাশি অন্য এলাকায় হত্যা করে গাজীপুরে মরদেহ ফেলে যাওয়ার ঘটনাও কম নয়। ঘনবসতি, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোর কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গত মে মাসেই জেলা ও মহানগরে ঘটেছে মোট ৩০টি হত্যাকাণ্ড।

অনুসন্ধান বলছে, হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি ছিনতাই, মাদক ব্যবসা, অস্ত্রের ব্যবহার এবং বিভিন্ন স্থাপনা দখলকে কেন্দ্র করেও বাড়ছে সংঘাত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের অভিযান চললেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসছে না অপরাধ।

এলাকাবাসীর দাবি, একের পর এক হত্যার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে আতঙ্ক। তাই অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরও কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

গত মে মাসে (এক মাসের) খুনের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মহানগরীতে খুন হয়েছে ১৭টি। আর একই সময়ে জেলার পাঁচটি উপজেলায় খুন হয়েছে ১৩টি। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কার্যালয় এবং জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়।

আলোচিত হত্যার মধ্যে গত ৯ মে কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামে নৃশংসভাবে খুন করা হয় একই পরিবারের শিশুসহ পাঁচজনকে। এই হত্যাকাণ্ডে প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লার মরদেহ উদ্ধার হয়েছে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার পদ্মা নদী থেকে।

একই দিন সন্ধ্যায় কাপাসিয়ার প্রহ্লাদপুর ইউনিয়নের ফাওগান বাজারে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে ষাটোর্ধ্ব এক বিএনপি নেতাকে সালিশে ডেকে নিয়ে এক ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন থেকে দুই দিন পর তার মৃত্যু হয়।

১০ মে কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের বাগচালা গ্রামে গরুচোর সন্দেহে তিনজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ সময় তাদের ব্যবহৃত একটি ট্রাকেও আগুন দেওয়া হয়।

১২ মে গাজীপুর মহানগরের গাছা থানার ওঝারপাড়া এলাকায় শুভ নামে এক অটোরিকশাচালককে গলা কেটে হত্যা করে তার অটোরিকশা ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। ১৪ মে শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের ডোয়াইবাড়ি গজারি বন থেকে আসিফ হোসেন (২১) নামে আরেক অটোরিকশাচালকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই দিনে টঙ্গী পূর্ব থানার মরকুন পূর্বপাড়া এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে ফারুক হোসেন (৩৭) নামে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

২ জুন কালীগঞ্জ উপজেলার তুমুলিয়া ইউনিয়নের স্থানীয় বাজারসংলগ্ন সোম এলাকা থেকে ছাইফুল ইসলাম (৪৯) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কালীগঞ্জ থানার এসআই মজিবুর রহমানের ভাষ্য, ওই ব্যক্তি উপজেলার অলুয়া গ্রামের বাসিন্দা। তাকে অন্য কোথাও হত্যার পর সেখানে মরদেহ ফেলে রাখা হয়েছে।

এর ঠিক দুই দিন পর, শ্রীপুর উপজেলার বরকুল গ্রামের শেখের ঘাট এলাকা থেকে নাঈম (২৭) নামে এক কাঁচামাল ব্যবসায়ীর হাত বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ উদ্ধারের আগে প্রায় ৩০ ঘণ্টা নিখোঁজ ছিলেন তিনিও।

টঙ্গীর বাসিন্দা রিয়াজ হাসানের অভিযোগ, ‘মাদকে আসক্ত মানুষই করছে এসব অপকর্ম। পাশাপাশি অটোরিকশা ছিনতাইকারীও বেড়েছে। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হচ্ছে।’

জেলার পরিসংখ্যান বলছে, গাজীপুরে মাত্র ৩৮ শতাংশ মানুষ বসবাস করেন নিজেদের বাড়িতে। বাকি অধিকাংশই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এসে থাকছেন ভাড়া বাসায়।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) গাজীপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার শিশির বলেন, ‘অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর যদি দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শাস্তির আওতায় আনা হতো, তাহলে অপরাধ অনেকাংশে কমত। এখানে ভাসমান লোক বেশি। কেউ কাউকে চেনে না। তাই অপরাধ করে পার পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।’

টঙ্গীর ১৭টি বস্তি, বিশেষ করে মাজার বস্তি, দীর্ঘদিন ধরেই অপরাধ ও মাদক ব্যবসার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট নিয়মিত অভিযান চালালেও কিছুদিন পর আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠে অপরাধচক্র। নিয়মিত মাদক বিক্রি এবং অস্ত্র ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বস্তিতে থাকা মানুষের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া অসমাপ্ত বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্প (বিমানবন্দর-গাজীপুর সড়ক) ভূমিকা রাখছে অপরাধে। উড়াল সেতু, সিঁড়ি ও র‌্যাম্প এলাকায় প্রতিনিয়ত ঘটে ছিনতাই এবং খুনের ঘটনা।

যদিও গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীনের দাবি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাঠে কাজ করছে পুলিশ। বিভিন্ন ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

একই সুর শোনা গেল গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. বেলায়েত হোসেনের কণ্ঠেও, ‘ঘনবসতিপূর্ণ গাজীপুরে বিভিন্ন সময় খুনের মতো ঘটনা ঘটে থাকে। তবে এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হচ্ছে পুলিশ। অপরাধ করে কেউ পার পাচ্ছে না। শুধু খুন নয়, সব ধরনের অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে নিরলস কাজ করে চলছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।’

খুনপুলিশসরকারগাজীপুর
    শেয়ার করুন:
    Advertisement
    advertiseadvertise