ফরিদপুরে পৃথক দুই সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫, আহত ৫

ছবি: আগামীর সময়
ফরিদপুরে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন পাঁচজন। এ দুর্ঘটনা দুটিতে আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। আজ শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে জেলার মধুখালী উপজেলার আড়কান্দি ও সদর উপজেলার কানাইপুরের তেঁতুলতলা এলাকায় ঘটে দুর্ঘটনা দুটি।
প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে মধুখালী উপজেলার আড়কান্দি এলাকায়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকাগামী কিং ফিশার পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে মাগুরাগামী একটি অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অ্যাম্বুলেন্সে থাকা তিনজন নিহত হন এবং আহত হন দুজন।
নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে রাব্বি (২১) নামের একজনের পরিচয় জানা গেছে। নিহত অন্য দুজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আহত সাগর বিশ্বাস (২২) ও রিয়া (২১) নামের দুজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, নিহত ও আহত ব্যক্তিরা মাগুরা সদর উপজেলার বাসিন্দা। তাঁরা ফরিদপুরে রেড ক্রিসেন্টের একটি রক্তদান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে করে মাগুরায় ফিরছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, অ্যাম্বুলেন্সটিতে ছয় থেকে সাতজনের একটি দল ছিল। তবে দুর্ঘটনার কারণ ও অ্যাম্বুলেন্সে থাকা সবার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ফরিদপুরের করিমপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম বলেন, বাস ও অ্যাম্বুলেন্সের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
ওসি আরও জানান, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত বাস ও অ্যাম্বুলেন্স উদ্ধার করে কানাইপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে নেওয়া হয়েছে।
অন্য দুর্ঘটনাটি ঘটে বিকেল চারটার দিকে ফরিদপুর-খুলনা মহাসড়কের কানাইপুরের তেঁতুলতলা এলাকায়। সেখানে বালুবোঝাই একটি ট্রাক, একটি প্রাইভেট কার ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশার যাত্রী সুমি আক্তার (৪০) ও তাঁর ছেলে শাওন (৮) নিহত হয়।
এ ঘটনায় সুমির স্বামী পলাশ উদ্দিনসহ আরও তিনজন আহত হন। তাঁদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পলাশ উদ্দিনের বাড়ি মাগুরার মোহাম্মদপুর উপজেলার মহেশপুর গ্রামে। নিহত মা ও শিশু একই গ্রামের বাসিন্দা।
ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা শ্রীবাস বারুই জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে নেওয়ার পর মহাসড়কে যান চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হয়। পরে পুলিশও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ করে।



