নৌপথে ঘরমুখো মানুষের ঢল, সরগরম চাঁদপুর লঞ্চঘাট

চাঁদপুর লঞ্চঘাটে ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড়। ছবি: আগামীর সময়
পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে নৌপথে ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবী মানুষ। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে সকাল থেকেই চাঁদপুর লঞ্চঘাটে যাত্রীদের ভিড় বাড়তে দেখা গেছে। ব্যাগ-সামান হাতে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘাটে আসছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। কেউ যাচ্ছেন দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায়, আবার কেউ ফিরছেন গ্রামের বাড়িতে স্বজনদের কাছে।
ঈদযাত্রাকে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে চাঁদপুর লঞ্চ টার্মিনালে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিআইডব্লিউটিএ, নৌপুলিশ ও জেলা পুলিশের সমন্বয়ে ঘাট এলাকায় চলছে বিশেষ টহল কার্যক্রম। যাত্রীদের নিরাপত্তায় সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে। প্রতিটি লঞ্চে চারজন করে আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ঈদ উপলক্ষে যাত্রীসেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে ঈদের আগের পাঁচ দিন থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়েও মাঠে থাকবেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ফায়ার সার্ভিস, কোস্ট গার্ড, স্কাউট ও আনসার সদস্যরা। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি। লঞ্চ টার্মিনালের বাইরে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম।
ঘাটে আসা যাত্রী নিজাম উদ্দিন বলেছেন, ‘সড়কপথের দীর্ঘ যানজট ও ভোগান্তি এড়াতে নৌপথকেই বেশি স্বস্তিদায়ক মনে করি। দীর্ঘদিন পর পরিবারের সবার সঙ্গে দেখা হবে, এটি অন্যরকম অনুভূতি। বছরের দুটি ঈদই আমাদের জন্য বিশেষ। এই সময় পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ আর আড্ডার আনন্দই আলাদা।’
আরেক যাত্রী রাইসা আক্তার বলেছেন, ‘প্রতিবছর ঈদের ছুটি পেলেই দাদা-দাদুর সঙ্গে ঈদ করতে বাড়ি আসি। তারা আমাদের জন্য অপেক্ষা করেন। তাই ছুটি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাড়িতে চলে এসেছি। ঈদ শেষে আবার ঢাকায় ফিরে যাব।’
তবে যাত্রীদের অভিযোগও রয়েছে। তারেক নামের এক যাত্রী বলেছেন, ‘ঘাটে পৌঁছানোর পর সিএনজি ও অটোরিকশা চালকরা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন। এতে আমাদের দুর্ভোগ বাড়ছে। প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করলে কিছুক্ষণ ঠিক থাকে, পরে আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়।’
বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, এবারের ঈদে চাঁদপুর নৌরুটে অর্ধশতাধিক ছোট-বড় লঞ্চ চলাচল করবে। যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে আরও ছয়টি অতিরিক্ত লঞ্চ।
‘যাত্রীদের নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে’— যোগ করেন তিনি।
নৌপুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল ওয়ারীশ বলেছেন, ‘দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম লঞ্চঘাট চাঁদপুর নৌ টার্মিনালে সব সময়ই যাত্রীর চাপ থাকে। তবে ঈদকে কেন্দ্র করে এ চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। যাত্রীরা যাতে নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারেন, সে জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঘাট থেকে হকার উচ্ছেদ করা হয়েছে। চুরি, ছিনতাই ও হয়রানি রোধে ঘাটের ভেতরে ও বাইরে নৌপুলিশের টহল টিম সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে।’
ঈদকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের পদচারণায় এরই মধ্যে সরগরম হয়ে উঠেছে চাঁদপুর লঞ্চঘাট। আগামী কয়েক দিনে যাত্রীর চাপ আরও বাড়বে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।






