দাদনের টাকা নিয়ে ছেলে নিখোঁজ, মাকে তুলে নিয়ে গেলেন ভাটা সর্দার

ভাটা সর্দারের ভাড়া করা বাসে উঠিয়ে নিয়ে যাচ্ছে দীপালি রানীকে
ইটভাটায় কাজে যাওয়ার শর্তে দাদন (অগ্রিম অর্থ) নিয়েছিলেন ছেলে জগদীশ। নির্ধারিত দিনে তাকে না পেয়ে তার মা দীপালি রানীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গেছেন ভাটা সর্দার আমজাদ হোসেন।
পরিবারের অভিযোগ, জোর করে তাকে ভাটায় নেওয়া হচ্ছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সাতক্ষীরার শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের জেলেখালি গ্রামে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, শ্রীফলকাটি গ্রামের ভাটা সর্দার আমজাদ হোসেনের কাছ থেকে ভাটায় যাওয়ার কথা বলে দাদন নেন জগদীশ। বৃহস্পতিবার ছিল ভাটার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার নির্ধারিত দিন। কিন্তু বিজয়া দশমীর অনুষ্ঠানে যাওয়ার পর থেকে জগদীশের কোনো খোঁজ মিলছে না। এ অবস্থায় তার মা দীপালি রানীকে সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে নিয়ে যান আমজাদ হোসেন।
দীপালি রানীর ভাই ভোলা নাথ বললেন, ‘পূজার আগে ভাটায় যাওয়ার শর্তে জগদীশকে দাদন দেন আমজাদ। বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন দেখতে গিয়ে ভাগনে আর বাড়ি ফেরেননি। বৃহস্পতিবার ভাটায় যাওয়ার দিন ছিল। জগদীশ যেতে না পারায় সন্ধ্যা ৭টার দিকে আমার বোনকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যান ভাটা সর্দার।’
ভোলা নাথ জানান, ঘটনার সময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে অভিযোগ জানানো হলেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিকার মেলেনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আমজাদ হোসেন বলেন, ‘মা ও ছেলে দুজনই ভাটায় যাওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। মা রান্না করবেন, ছেলে জোগালির কাজ করবেন। জগদীশ ভাটায় যাবেন না বলে পালিয়ে গেছেন। মা-ও টাকা নিয়েছেন, তাই তাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’
তার ভাষ্য, কাজ করতে না পারলে দীপালি রানীকে বাড়ি ফিরিয়ে আনা হবে।
এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী জানিয়েছেন, এ ঘটনায় এখনো কেউ অভিযোগ করেননি। থানায় সুনির্দিষ্ট তথ্যসহ লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



