ব্রিজের নিচে মিলল ৩ বস্তা ঘোড়ার চামড়া ও মাথা

তিন বস্তায় ঘোড়ার চামড়া ও মাথা— সংগৃহীত
ময়মনসিংহে একটি ব্রিজের নিচে পড়ে থাকা তিনটি বস্তা থেকে ঘোড়ার চামড়া ও একাধিক মাথা উদ্ধার করা হয়েছে। আজ শুক্রবার সকালে নান্দাইলের চর বেতাগৈর ইউনিয়নের চর লক্ষ্মীদিয়া ব্রিজের নিচে এসব পাওয়া যায়। ঘোড়া জবাই করে মাংস নিয়ে যাওয়ার পর চামড়া ও মাথাগুলো সেখানে ফেলে যাওয়া হয়েছে বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা। তাদের আশঙ্কা, ওই মাংস গরুর মাংসের সঙ্গে মিশিয়ে কোথাও বিক্রি করা হয়ে থাকতে পারে।
স্থানীয়রা জানান, সকালে ব্রিজের নিচ থেকে দুর্গন্ধ বের হলে পথচারী ও আশপাশের লোকজন সেখানে যান। পরে বস্তাগুলো খুলে ঘোড়ার চামড়া ও মাথা দেখতে পান। বিষয়টি জানাজানি হলে ঘটনাস্থলে স্থানীয়দের ভিড় জমে এবং এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
শফিকুল ইসলাম নামে একজন বললেন, ‘গরু জবাই করার পরে মাংস বাদে বাকি অংশটুকু ফেলে দেওয়া হয়, ঘোড়ারও সেইভাবে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শুক্রবারে আশপাশের বাজারগুলোতে মাংসের চাহিদা বেশি থাকে। তাই বাজারে বিক্রি হওয়া মাংস পরীক্ষা করা হলে বিষয়টি পরিষ্কার হতে পারে।’
স্থানীয় সোহেল ও রাজু মিয়া বলেছেন, ‘মাংসের উচ্চমূল্যের সুযোগ নিয়ে কেউ ঘোড়ার মাংস গরুর মাংস হিসেবে বিক্রি করে থাকলে তা গুরুতর প্রতারণা।’ বাজারগুলোতে মাংসের মান যাচাইয়ের পাশাপাশি নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার দাবি জানান তারা।
চর বেতাগৈর ইউনিয়নের দফাদার পলাশ মিয়া বলছিলেন, ‘এলাকায় এ ধরনের ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। আশপাশে মধুপুর ও বালিয়াপাড়ার মতো বড় বাজার রয়েছে। তবে কারা ঘোড়ার চামড়া ও মাথাগুলো সেখানে ফেলে গেছে, তা এখনো জানা যায়নি।’
নান্দাইল উপজেলা ভোক্তা অধিকার পরিদর্শক মিজানুর রহমান জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। এটি মূলত প্রাণিসম্পদ দপ্তরের বিষয় হলেও খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নান্দাইল উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কে এম আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘মাংস বিক্রির জন্য আমাদের দপ্তরের পক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট স্টোরেজ বা সংরক্ষণ ব্যবস্থা নেই। ফলে ব্যবসায়ীরা নিজ নিজ ব্যবস্থাপনায় মাংস বিক্রি করছেন। পৌরসভায় স্যানিটারি ইন্সপেক্টর থাকলেও ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে এমন ব্যবস্থা নেই। আমরা দ্রুত নান্দাইলের মাংস ব্যবসায়ীদের নিয়ে একটি সচেতনতামূলক সভা করব এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।’







