তিস্তা বাঁধে ভাঙনের কারণ খুঁজতে কমিটি

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধে ফের ভাঙন, বিলীন ১৪ লাখ টাকার বাঁশের পাইলিং। ছবি: আগামীর সময়
নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে রংপুরের গঙ্গাচড়ার তিস্তা সড়ক সেতু রক্ষা বাঁধে। নদীতে বিলীন হয়েছে ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাঁশের পাইলিং। ঘটনার তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) রংপুরের প্রধান প্রকৌশলীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার কথা রয়েছে।
গতকাল সোমবার বিকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সূত্র জানিয়েছে, ভাঙন পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ঢাকা থেকে এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের দলও ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসবে।
স্থানীয়রা জানালেন, উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও ভারী বৃষ্টির কারণে বেড়েছে তিস্তা নদীর পানিপ্রবাহ। এতে ভেঙে গেছে ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এলজিইডির বাঁশের পাইলিং। একই সঙ্গে ভাঙন দেখা দিয়েছে সেতুর উত্তর-পশ্চিম প্রান্তের রক্ষা বাঁধেও। এতে তিস্তা সেতুসহ হুমকির মুখে পড়েছে রংপুর-লালমনিরহাট আঞ্চলিক সড়ক।
জানা যায়, গত বছর ভাঙনের কারণে নদীগর্ভে বিলীন হয় সেতু রক্ষা বাঁধের ১০০ মিটারের বেশি অংশ। এরপর অস্থায়ী ব্যবস্থা হিসেবে স্থাপন করা হয় বাঁশের পাইলিং। তবে ছয় মাসের কম সময়ের মধ্যে পানির প্রবাহ বৃদ্ধির প্রথম ধাক্কাতেই ধসে গেছে সেই পাইলিং। ফলে নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে রক্ষা বাঁধেও।
লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেছেন, ভাঙনের শুরুতে অল্প পরিমাণ জিও ব্যাগ ফেলা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হতো। কিন্তু দীর্ঘদিন প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না আসায় ভাঙন আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
তার ভাষ্য, বুয়েটের এক বিশেষজ্ঞের পরামর্শে বাঁশের পাইলিং নির্মাণ করা হলেও সেটি টেকেনি। ১৪ লাখ টাকার প্রকল্প কার্যত ডুবেছে নদীতে।
এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী ওবায়দুর রহমান জানিয়েছেন, গত বছর ভাঙন শুরু হলে কারিগরি পরামর্শের জন্য সহযোগিতা নেওয়া হয় পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বুয়েটের এক প্রকৌশলীর। তাদের সুপারিশে ১৪ লাখ টাকায় নির্মাণ করা হয় বাঁশের পাইলিং।
গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে একটি প্রতিবেদন।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানালেন রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন। কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দেবে এবং নির্ধারণ করবে পরবর্তী করণীয়।





