টঙ্গীর বন্ধ ৩ টেক্সটাইল মিল চালুর উদ্যোগ, বড় বাধা ঋণের বোঝা

ছবি: আগামীর সময়
দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন বন্ধ থাকা গাজীপুরের টঙ্গীর তিনটি টেক্সটাইল মিল আবারও চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুরোনো যন্ত্রপাতি, দীর্ঘদিনের লোকসান এবং ঋণের সুদে বাড়তে থাকা দায়—এসব সংকট কাটিয়ে নিউ মন্নু ফাইন কটন মিলস লিমিটেড, নিউ অলিম্পিয়া টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড ও মেঘনা টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডকে নতুন করে উৎপাদনে ফেরানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টঙ্গীর ইজতেমা মাঠসংলগ্ন নবী হাউজে মিল তিনটির ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে পরিচিতি ও মতবিনিময়সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় মিলগুলোর বর্তমান অবস্থা, ঋণের দায়, যন্ত্রপাতির সক্ষমতা এবং পুনরায় উৎপাদন শুরু করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) আওতাধীন এই তিনটি মিল ২০০১ সালে যৌথ উদ্যোগের (জয়েন্ট ভেঞ্চার) মাধ্যমে শেয়ারহোল্ডারদের কাছে মালিকানা হস্তান্তর করা হয়। এরপর থেকেই মিলগুলো বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকায় একদিকে যেমন যন্ত্রপাতি পুরোনো হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে ঋণের সুদ যুক্ত হয়ে আর্থিক দায়ও বেড়েছে।
মিল কর্তৃপক্ষের দাবি, হস্তান্তরের সময় ঋণের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম থাকলেও বর্তমানে প্রতিটি মিলের ঋণের পরিমাণ ৪৪ কোটি টাকার বেশি। ফলে বিপুল ঋণের দায় নিয়ে নতুন করে উৎপাদনে ফেরাটিই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিউ অলিম্পিয়া টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু হাসান বলেন, হস্তান্তরের সময় ঋণের পরিমাণ কম ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন মিল বন্ধ থাকায় সুদ যুক্ত হয়ে বর্তমানে ঋণের পরিমাণ অনেক বেড়েছে। ব্যাংকগুলো সুদ মওকুফ করলে জয়েন্ট ভেঞ্চারের মাধ্যমে মিলগুলো নতুনভাবে চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সভায় মিল তিনটির প্রধান উপদেষ্টা ও গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম. মঞ্জুরুল করিম রনি পরিচালনা পরিষদের সদস্যদের কাছে মিলগুলোর সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপনের আহ্বান জানান। তিনি মিলগুলো পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, টঙ্গীর শিল্পাঞ্চলে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এই তিনটি মিল চালু হলে স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হতে পারে। তবে উৎপাদনে ফেরার আগে ঋণের সুদ, পুরোনো যন্ত্রপাতি এবং প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের বিষয়গুলো সমাধান করা জরুরি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির ২ নম্বর উপদেষ্টা সালাউদ্দিন সরকার, গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাবেক ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাকিব উদ্দিন সরকার পাপ্পু, টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সভাপতি সরকার জাবেদ আহাম্মেদ সুমন, সাধারণ সম্পাদক গাজী সালাউদ্দিন, টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপির সভাপতি বসির উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান নুর ভিপি আসাদসহ স্থানীয় নেতারা।



