শ্যামনগর
খেলার মাঠে ট্রাক্টর দিয়ে চাষ, বাধা দিয়ে আহত ১৩

ছবি: আগামীর সময়
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে স্থানীয় তরুণদের ব্যবহৃত একটি ফুটবল মাঠ ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে দুই নারীসহ অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে পুলিশের সঙ্গেও দুর্ব্যবহারের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছে পুলিশ। আজ সোমবার বেলা ১২টার দিকে পৌরসদরের দেবালয় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে আহসান হাবীব (১২), রাশিদুল ইসলাম (২৭), সাইমুম (১৯) ও আবু হানিফা (১৮) শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন। অন্য আহতরা হলেন মরিয়ম খাতুন (২৩), আয়েশা বেগম (৪২), শাহাজালাল (১৮), সাইদ (৩০), সাগর (২০), রেজাউল (৩৫), মিজান (৩২), শাহিন (২৪) ও মোস্তাফিজুর (২৭)।
স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য ও উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউল হক দোলনের চাচাত ভাই সাইফুল, শহীদুল্লাহ ও সাইফুলার সহকারী রমজান হামলায় নেতৃত্ব দেন বলে দাবি ভুক্তোভোগীদের।
স্থানীয় বাসিন্দা ও আহত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেবালয় মৌজার প্রায় ১৮ বিঘা সরকারি খাসজমি মরহুম খাজা নাজিমউদ্দীনের ছেলে সাইফুল ইসলাম ও তার স্বজনদের দখলে ছিল বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। কয়েক মাস আগে এলাকাবাসীর দাবির পর উপজেলা প্রশাসন জমির প্রায় আট বিঘা অংশ স্থানীয় তরুণদের খেলাধুলার জন্য ব্যবহারের অনুমতি দেয়। এরপর থেকে সেখানে নিয়মিত ফুটবল খেলা হতো।
অভিযোগ রয়েছে, সোমবার সকালে সাইফুল ইসলাম ও তার সহযোগী রমজান আলীর নেতৃত্বে ৩৫-৪০ জন ব্যক্তি তিনটি ট্রাক্টর নিয়ে মাঠে এসে জমি চাষ শুরু করেন। এ সময় স্থানীয় লোকজন বাধা দিলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে দুই নারীসহ অন্তত ১৩ জন আহত হন।
চিকিৎসাধীন রাশিদুল ইসলাম বললেন, ‘আমাদের দীর্ঘদিনের খেলার মাঠটি রক্ষা করতে গিয়েছিলাম। এ সময় তারা কোনো কথা না শুনেই আমাদের ওপর হামলা করা হয়।’
অভিযুক্ত সাইফুল ইসলামের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য জানা যায়নি। এ ছাড়া শহীদুল্লাহর মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তবে রমজান আলী বলেছেন, সামান্য ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। জমিটি দীর্ঘদিন ধরে আমাদের দখলে। সরকার ইচ্ছা করলেই অন্য কাউকে এ জমি ব্যবহারের সুযোগ দিতে পারে না।
স্থানীয়দের ভাষ্য, জনবহুল এলাকায় শিশু-কিশোর ও তরুণদের খেলাধুলার জন্য উন্মুক্ত মাঠের সংখ্যা ক্রমেই কমে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি জমিতে গড়ে ওঠা মাঠ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হওয়ায় খেলাধুলার পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, মাঠটির আইনি অবস্থান দ্রুত নির্ধারণ করে খেলাধুলার জন্য সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হোক।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন জানালেন, জমিটি সরকারি খাসজমি। স্থানীয় বাসিন্দাদের আবেদনের পর এর একটি অংশ খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে জানতে পেরেছি সোমবার সকালে কিছু ব্যক্তি একাধিক ট্রাক্টর নিয়ে জোরপূর্বক ওই জমি চাষ করতে গিয়ে বাঁধা পেয়ে হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী বলেছেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







