‘রোহিঙ্গা ইসলামিক মাহাজ’ গোষ্ঠীর প্রধান রফিক গ্রেপ্তার

‘রোহিঙ্গা ইসলামিক মাহাজ’-এর প্রধান মো. রফিক (মাঝে)। ছবি: এপিবিএনের সৌজন্যে
কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে অভিযান চালিয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘রোহিঙ্গা ইসলামিক মাহাজ’-এর প্রধান মো. রফিককে গ্রেপ্তার করেছে ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে করা একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে উখিয়ার বালুখালী এলাকার ৯ নম্বর রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের সি-৫ ব্লক থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রফিকের বাবার নাম মোহাম্মদ আইয়ুব।
শনিবার দুপুরে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ৮ এপিবিএনের অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ। তিনি বললেন, উখিয়া থানার একটি মামলায় রফিকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। গ্রেপ্তারের পর তাকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ আরও বললেন, রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে রফিককে গ্রেপ্তার করা হয়।
আশ্রয়শিবিরে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামি মাহাজ
রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ‘রোহিঙ্গা ইসলামিক মাহাজ’-এর নাম বিভিন্ন নিরাপত্তাবিষয়ক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ২০২৫ সালে প্রকাশিত ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের (আইসিজি) একটি প্রতিবেদনেও সংগঠনটির উল্লেখ রয়েছে। তবে সংগঠনটির সাংগঠনিক কাঠামো, বর্তমান নেতৃত্ব ও বিভিন্ন উপদলের ভূমিকা সম্পর্কে প্রকাশ্য তথ্য সীমিত।
কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলনের সদস্যসচিব এইচ এম নজরুল ইসলামের মতে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী আশ্রয়শিবিরগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
বিভিন্ন সময়ে এসব গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আশ্রয়শিবিরে আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, অপহরণ, অস্ত্রের ব্যবহার ও তরুণদের দলে ভেড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। গোষ্ঠীগুলোর পারস্পরিক বিরোধ ও সংঘাতও শিবিরের সাধারণ বাসিন্দাদের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে রফিকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা মামলার অভিযোগের বাইরে অন্য কোনো অপরাধে তার সংশ্লিষ্টতার তথ্য ৮ এপিবিএনের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়নি।



