ছনের ঝাড়ু বিক্রি করেই টিকে আছে রাশেদের সংসার

নিজের হাতে বানানো ঝাড়ুগুলো রাশেদ মিয়া বিক্রি করেন গ্রামে গ্রামে ঘুরে। ছবি: আগামীর সময়
বয়স ষাট পেরিয়েছে, তবু থামেনি পরিশ্রম। ভোর হলেই বেরিয়ে পড়েন ছন সংগ্রহে। রোদে শুকিয়ে নিজের হাতে তৈরি করেন ঝাড়ু। তারপর সেগুলো বিক্রি করেন গ্রামে গ্রামে ঘুরে। প্লাস্টিকের ঝাড়ুর দাপটে চাহিদা কমেছে, আয়ও কমেছে। তবু পুরনো এই পেশা আঁকড়ে ধরে সততার সঙ্গে সংসার চালিয়ে যাচ্ছেন পাবনার ঈশ্বরদীর রাশেদ মিয়া।
প্রতিদিন ভোরে সূর্যের আলো ফুটতেই আশপাশের ঝোপঝাড় থেকে ছন সংগ্রহের কাজ শুরু করেন তিনি। পরে সেই ছন রোদে শুকানো, পরিষ্কার করা এবং সুনিপুণ হাতে শক্ত করে বেঁধে ঝাড়ু তৈরি করেন। একটি ঝাড়ু তৈরিতে যেমন শারীরিক পরিশ্রম লাগে, তেমনি প্রয়োজন হয় ধৈর্য ও দক্ষতার।
ঝাড়ু তৈরি শেষে তা বিক্রির জন্য গ্রামের পাড়া-মহল্লায় বেরিয়ে পড়েন রাশেদ। কখনো গ্রামে গ্রামে ঘুরে দু-এক করে খুচরা দামে বিক্রি করেন। আবার কখনো বিভিন্ন মোড়ের দোকানে পাইকারি দামে ঝাড়ু দেন।
তবে বাজারে সস্তা প্লাস্টিকের ঝাড়ুর আধিপত্যে তার তৈরি ছনের ঝাড়ুর চাহিদা আগের তুলনায় অনেক কমেছে। দিন শেষে ৩০ থেকে ৪০ টাকা দরে কয়েকটি ঝাড়ু বিক্রি করে যে সামান্য আয় হয়, তা দিয়েই কোনোরকমে চলে তার সংসার।
রাশেদ মিয়া জানালেন, বর্ষাকালে ছন শুকানো বা সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়লে তার দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে পর্যাপ্ত ছন না পেলে ঝাড়ু তৈরির পাশাপাশি কৃষিকাজও করতে হয় তাকে।
শত প্রতিকূলতা ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও হাল ছাড়েননি রাশেদ। তার ভাষ্য, ‘কষ্ট হলেও সৎপথে কামাই করে খাই, এটাই শান্তি।’
পরিবেশবান্ধব ছনের ঝাড়ু ব্যবহারের পর সহজেই মাটির সঙ্গে মিশে যায়। এতে পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাবও কম পড়ে। একই সঙ্গে রাশেদের মতো প্রান্তিক মানুষের জীবিকার পথ তৈরি হয়।
স্থানীয়দের মতে, রাশেদের মতো নিঃশব্দ পরিশ্রমী মানুষদের টিকিয়ে রাখতে দেশীয় লোকশিল্পের প্রতি সংশ্লিষ্টদের নজর দেওয়া প্রয়োজন। এতে একদিকে হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য রক্ষা পাবে, অন্যদিকে প্রান্তিক মানুষের জীবিকাও টিকে থাকবে।







