বিশেষ কৌশলে সরানো হলো খানজাহান আলী দিঘির সেই কুমিরটি

ছবি: আগামীর সময়
বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খানজাহান আলী (রহ.)–এর মাজারসংলগ্ন দিঘিতে থাকা একমাত্র কুমিরটি অপসারণ করেছে প্রশাসন। সম্প্রতি কুমিরটির আক্রমণে এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় জননিরাপত্তার স্বার্থে।
আজ বুধবার সকাল থেকে মাজার এলাকায় অবস্থান নেন বন বিভাগ, জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা। আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দিঘির পূর্ব পাড়ে শনাক্ত করা হয় কুমিরটির অবস্থান। পরে প্রাণীটিকে বশে আনার কার্যক্রম শুরু হয় বিশেষ কৌশলে মুরগির মাংস খেতে দিয়ে।
আজ দুপুর ১২টার দিকে সফলভাবে আটক করে দিঘি থেকে তুলে আনা হয় কুমিরটিকে। পরে একটি বিশেষ যানবাহনে করে পাঠানো হয় খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে।
বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. আতিয়া খাতুন জানিয়েছেন, জননিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মাজারের দিঘিতে থাকা কুমিরটি অপসারণ করা হয়েছে। আপাতত প্রাণীটিকে খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে রাখা হবে। পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কুমিরটির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির বলেছেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে কুমিরটিকে ধরে খুলনার বয়রায় অবস্থিত বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেসকিউ সেন্টারে নেওয়া হয়েছে। সেখানে কুমিরটির শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হবে। সেখান থেকে কুমিরটি সুন্দরবনের করমজলে নেওয়া হবে কি না, তা পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার রাতে মাজারসংলগ্ন দিঘিতে গোসল করতে নেমে ফাতেমা (৭) নামে এক শিশু কুমিরের আক্রমণের শিকার হয়। পরে উদ্ধার অভিযানে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনার পর থেকেই কুমিরটিকে সরিয়ে নেওয়ার দাবি ওঠে এবং এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।





