‘পাহারা দিয়েও’ সঙ্গীর শুঁড় রক্ষা করতে পারল না মাদি হাতি

৬০ বছর বয়সী এক পুরুষ হাতির মৃত্যু হয়েছে। সেই হাতির মরদেহটি পাহারা দিচ্ছিল তারই সঙ্গী আরেকটি মাদি হাতি। পাশাপাশি পাহারা দিয়ে আসছিলেন বন বিভাগের কর্মচারীরা। তবে শেষ পর্যন্ত পুরুষ হাতির শুঁড় ও মাংস রক্ষা করা যায়নি দুর্বৃত্তদের হাত থেকে। এমন চিত্র দেখা গেল রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলায় ভাসান্যাদম এলাকায়।
ঝড়বৃষ্টির কারণে বন বিভাগের কর্মকর্তারা যখন সরে যেতে বাধ্য হয়। এসময় মানুষের বাড়াবাড়িতে সঙ্গী হাতিও সরে যায়। এরপরই হাতিটির শুঁড় ও পায়ের মাংস কেটে নেয় একদল দুর্বৃত্ত!
এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রফিকুজ্জামান শাহ।
‘রবিবার সারা দিন সঙ্গী স্ত্রী হাতিটি মৃতদেহের পাশে থাকায় বন বিভাগের কর্মীরা কাছে যেতে পারেননি। রাতে ঝড়-বৃষ্টি এবং নিরাপত্তার কারণে মরদেহটি ফেলে রেখেই ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম (ইআরটি) সদস্যরা ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন’-বলছিলেন রফিকুজ্জামান শাহ।
বন বিভাগের এই কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছিলেন, ‘এদিন রাতে সুযোগ বুঝে কে বা কারা হাতিটির শুঁড় ও পায়ের মাংস কেটে নিয়ে গেছে। এটি অত্যন্ত গর্হিত ও অপরাধমূলক কাজ। ভেটেরিনারি সার্জনসহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি ও ময়নাতদন্তের জন্য নমুনা সংগ্রহের পর দ্রুতই হাতিটিকে মাটিচাপা দেওয়া হবে। মরদেহ আর কোনোভাবে বিকৃত করার সুযোগ দেওয়া হবে না।’
মৃত হাতিটির মরদেহ বিকৃতির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এলাকাবাসী। ক্ষোভ ঝেড়েছেন বন বিভাগের কর্মকর্তারাও।
এর আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মৃত পুরুষ হাতিটির পাশে থাকা তার সঙ্গী হাতিটিকে তাড়ানোর জন্য স্থানীয়রা পাথর নিক্ষেপসহ নানাভাবে বিরক্ত করছিল। একপর্যায়ে রাতে বৃষ্টি হওয়ার হাতিটি সরে গেলে দুর্বৃত্তরা শুঁড় ও পায়ের মাংস নিয়ে যায়।
বন বিভাগের পাবলাখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানান, গত রাতে স্ত্রী হাতিটি বনে ফিরে গেলে মৃতদেহটি একা পড়ে ছিল। এই সুযোগে গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা হানা দিয়ে হাতিটির শুঁড় ও একটি পেছনের পা কেটে নিয়ে যায়। বন বিভাগের প্রহরী সকালে গিয়ে বিষয়টি দেখতে পান।
‘একজন প্রহরীর পক্ষে শত শত মানুষকে সামলানো সম্ভব নয়। রাতে নিরাপত্তার কারণে প্রহরী ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে দুর্বৃত্তরা এই সুযোগ নেয়। আমরা তদন্ত করে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেব’- যোগ করেন শরীফুল ইসলাম।
বনবিভাগ জানিয়েছে, বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা ও দীর্ঘদিনের সংক্রমণ নিয়ে গত রবিবার লংগদুর ভাসান্যাদাম এলাকায় হাতিটি মারা যায়। দাঁতবিহীন এই হাতিটিকে সুস্থ করে তোলার জন্য চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি হাসপাতাল ও ডুলহাজারা সাফারি পার্কের চিকিৎসকরা গত ১০ এপ্রিল পর্যন্ত নিয়মিত চিকিৎসা দিচ্ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাঁচানো সম্ভব হয়নি হাতিটিকে।



