কালকিনিতে প্রতিবন্ধী ভিক্ষুকের ঘরে সিঁধ কেটে চাল-টাকা চুরি

কালকিনিতে শারীরিক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী এক ভিক্ষুকের ঘরে সিঁধ কেটে চুরি। ছবি: আগামীর সময়
মাদারীপুরের কালকিনিতে শারীরিক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী এক ভিক্ষুকের ঘরে সিঁধ কেটে চাল ও জমানো টাকা চুরির অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে লাঠিতে ভর করে গ্রামে গ্রামে ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করেন আব্দুল জলিল। কষ্ট করে জমানো শেষ সম্বলটুকু চুরি হয়ে যাওয়ায় তিনি অসহায় হয়ে পড়েছেন। এ ঘটনায় ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
গতকাল রবিবার মধ্যরাতে উপজেলার পূর্ব এনায়েতনগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কালাই সরদারের চর এলাকার বেপারীকান্দি গ্রামের বেপারীবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, আব্দুল জলিল একা চলাফেরা করতে পারেন না। লাঠিতে ভর করে প্রতিদিন বিভিন্ন গ্রাম ও হাটবাজারে ঘুরে মানুষের কাছে ৫ থেকে ১০ টাকা চেয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি। কখনো মানুষের দেওয়া সামান্য টাকায় খাবার জোটে, আবার কখনো অনাহারেও দিন কাটে তার। ভিক্ষা করে পাওয়া চাল ও সামান্য টাকা জমিয়ে নিজের ছোট্ট ঘরে রাখতেন জলিল। তার এক বোন মাঝেমধ্যে এসে রান্না করে তাকে খাওয়ান।
প্রতিদিনের মতো রবিবার রাতেও ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন জলিল। এ সময় দুর্বৃত্তরা ঘরের সামনের দরজায় তালা লাগিয়ে পেছনের অংশে সিঁধ কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তার ভিক্ষা করে জমানো চাল ও টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।
আজ সোমবার সকালে ঘুম থেকে উঠে ঘরের এমন অবস্থা দেখে হতবাক হয়ে পড়েন তিনি। শেষ সম্বল হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন জলিল। তার কান্না ও অসহায়ত্ব দেখে স্থানীয় অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে আব্দুল জলিল বললেন, ‘আমার সব শেষ হয়ে গেছে। ভিক্ষা কইরা মানুষের কাছ থেকে যা জোগাড় করছিলাম, সব লইয়া গেছে। আমি এখন বাঁচব কেমনে? আল্লাহ, তুমি আমারে বাঁচাও। যারা আমার এগুলো নিছে, তুমি তাগো বিচার করো।’
ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দা আলামিন ও আফসানা আফরোজ বলেছেন, ‘যারা ভিক্ষুকের ঘরে চুরি করে, তারা আসলে মানুষ নয়, মানুষ নামের পশু। এদের বিচার হওয়া দরকার। আমরা সরকার ও প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবি জানাই।’
এলাকাবাসীও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি সাংবাদিকের মাধ্যমে ঘটনাটি জেনেছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হবে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




