মে দিবসেও ঘুরছে কারখানার চাকা, ক্ষোভ শ্রমিকদের

ছবি: আগামীর সময়
শ্রমিকের অধিকার, ন্যায্য মজুরি ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সংগ্রামের প্রতীক আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস—পহেলা মে। ১৮৮৬ সালের এই দিনে শিকাগোতে শ্রমঘণ্টা নির্ধারণ ও ন্যায্য অধিকার আদায়ে প্রাণ দিয়েছিলেন বেশ কয়েকজন। তাদের আত্মত্যাগের স্মৃতি ধারণ করে প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে পালিত হয় এই দিবসটি।
অথচ সেই শ্রমিক দিবসের সরকারি ছুটির দিনেই গাজীপুরের কালিয়াকৈরের একটি কারখানায় চলছে উৎপাদন কার্যক্রম, ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছে শ্রমিকদের, ওঠেছে এমনই অভিযোগ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুক্রবার মে দিবসেও খোলা ছিল উপজেলার এস এ স্পিনিং মিলস লিমিটেড ইউনিট-২ কারখানা। বাইরে থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে কারখানায় শ্রমিকদের উপস্থিতি এবং পণ্যবাহী যানবাহনের চলাচল।
এ বিষয়ে তথ্য নিতে গেলে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলার আশ্বাস দেওয়া হয় সাংবাদিকদের। পরে কারখানার অ্যাডমিন কর্মকর্তা ফজলুর রহমান ও সিবিএ সাধারণ সম্পাদক মো. চান মিয়ার উপস্থিতিতে তাদের ভেতরে নেওয়া হলেও সরাসরি শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হয়নি। এমনকি কিছুক্ষণ পর বের করে দেওয়া হয় সবাইকে।
কারখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, শ্রমিকদের কাউকে জোর করে কাজে আনা হয়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শ্রমিকের ভাষ্য আলাদা।
তাদের অভিযোগ, কাজে অনুপস্থিত থাকলে বেতন কেটে দেওয়া বা চাকরি হারানোর ভয় দেখিয়ে বাধ্য করা হয়েছে কাজে আসতে।
এক শ্রমিক ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্তব্য করেন, মহান মে দিবসের দিনেই ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে চালিয়ে যেতে হচ্ছে কাজ, যা তাদের জন্য কষ্টকর।
কারখানার অ্যাডমিন কর্মকর্তা ফজলুর রহমানের ভাষ্য, কারখানায় তিন শিফটে কাজ করেন প্রায় ৩৬০ জন শ্রমিক। ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত ছুটি সমন্বয়ের জন্য চালানো হচ্ছে উৎপাদন।
‘বর্তমানে একটি শিফটে কাজ করছেন প্রায় ১২০ জন শ্রমিক। তাদের সঙ্গে আলোচনা করেই নেওয়া হয়েছে এই সিদ্ধান্ত।’
একই দাবি সিবিএ সাধারণ সম্পাদক মো. চান মিয়ার। ‘শ্রমিকদের সম্মতিতেই কাজ চলছে, কাউকে বাধ্য করা হয়নি।’
তবে কালিয়াকৈর পৌর শ্রমিক দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এ কে আজাদ বলছেন, ‘মে দিবস শ্রমিক অধিকারের ইতিহাস ও আত্মত্যাগের প্রতীক। এই দিনে কারখানা চালু রাখতে হলে শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের স্বাধীন সম্মতি ও প্রাপ্য সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি, অন্যথায় তা শ্রম আইনের চেতনার পরিপন্থী।’
বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন। ‘এটি ভ্রাম্যমাণ আদালতের আওতায় না থাকায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



