প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তালা ভেঙে প্রজেক্টর-ল্যাপটপ চুরি

দেওতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়— সংগৃহীত
গাজীপুরের কালীগঞ্জে দেওতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, স্পিকার, সততা স্টোরের নগদ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র চুরি করেছে দুর্বৃত্তরা। আজ সোমবার সকালে বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষকরা ভাঙা তালা ও এলোমেলো অবস্থায় অফিস কক্ষ দেখতে পান। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, চুরি হওয়া মালামালসহ প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
বিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাসরিন জানান, সকালে সহকারী শিক্ষক নূসরাত জাহান জেনি বিদ্যালয়ে এসে কেচি গেটের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে অফিস কক্ষের দিকে যাওয়ার সময় তিনি দরজার তালা ভাঙা দেখতে পান। বারান্দার পকেট গেটের তালাও ভাঙা ছিল। বিষয়টি তিনি ফোনে আমাকে জানান। খবর পেয়ে দ্রুত বিদ্যালয়ে ছুটে আসি।
অফিস কক্ষে ঢুকে দেখি, আলমিরার দরজা খোলা এবং টেবিলের সব কটি ড্রয়ারও খোলা। গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। তল্লাশি করে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের ল্যাপটপ, শিশুদের হাতে-কলমে শেখানোর কাজে ব্যবহৃত প্রজেক্টর, স্পিকার, সততা স্টোরের নগদ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নেই।
নাসরিন বললেন, ‘ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, সততা স্টোরের নগদ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র চুরি করে নিয়ে গেছে। এতে বিদ্যালয়ের প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। শিশু শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শেখানোর প্রজেক্টরটিও নিয়ে গেছে, তাদের এতটুকু দয়াও হলো না।’
চুরির খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে আসেন স্থানীয় বাসিন্দা সেবক পাল, সাইফুল ইসলাম ও অভিভাবক আয়েশা। তারা জানান, দেওতলা গ্রামের ইতিহাসে বিদ্যালয়ে এ ধরনের চুরির ঘটনা এবারই প্রথম। এলাকায় নেশার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কেউ এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে বলে তাদের ধারণা।
সহকারী শিক্ষক কারিমা সবাইকে সতর্ক করে বলেন, ‘কেউ যেন তালা বা আসবাবপত্রে হাত না দেন। ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরীক্ষা করলে চোর শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।’
এদিকে দেওতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনায় কালীগঞ্জ উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার জানান, কালীগঞ্জে মোট ১২৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৪৭টি বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরী আছেন। বাকি ৮২টি বিদ্যালয় রাতে কোনো নৈশপ্রহরী ছাড়াই থাকে। গত মাসেও আরও দুজন নৈশপ্রহরী চাকরি ছেড়ে চলে গেছেন।
জেসমিন আক্তার বলেছেন, ‘আমি এখানে যোগদানের মাত্র পাঁচ মাস হয়েছে। এর মধ্যে দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ধরনের চুরির ঘটনা ঘটেছে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরীর ব্যবস্থা করা হলে কিংবা বরাদ্দ দিয়ে শূন্য পদগুলো পূরণ করা হলে এ ধরনের চুরি কিছুটা হলেও প্রতিরোধ করা সম্ভব হতো।’
দেওতলা বিদ্যালয়ের ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, দেওতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনায় এখনো থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন।
তিনি বললেন, ‘দেওতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’







