প্রশাসনের অজান্তে শতবর্ষী সরকারি গাছ কর্তন, নাগেশ্বরীতে তোলপাড়

ছবি: আগামীর সময়
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ডাকনিরপাঠ বাজারে শতবর্ষী একটি রেইনট্রি কড়ই গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি সম্পত্তির আওতাধীন গাছটি দুই দিন ধরে দিনদুপুরে কাটা হলেও বিষয়টি জানত না উপজেলা প্রশাসন, বন বিভাগ ও জেলা পরিষদ। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে শুরু হয়েছে তোলপাড়।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে ডাকনিরপাঠ বাজারের ভিতরবন্দ-কালীগঞ্জ সড়কের পাশে থাকা গাছটি কাটা হয়। একই সময় পূর্বচণ্ডীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওপর ঝুঁকে থাকা আরেকটি রেইনট্রি গাছের বড় ডালও কাটা হয়। স্থানীয়দের দাবি, কাটা গাছটির বাজারমূল্য প্রায় ৬০ হাজার টাকা।
ডাকনিরপাঠ ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য গয়ানাথ রায় বলেন, বাজারের ব্যবসায়ী হাসেম আলীর ঘরের ওপর গাছটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। এ কারণে গাছটি কাটার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সফিউল আলম সফির কাছে আবেদন করা হয়। পরে চেয়ারম্যানের অনুমতি নিয়ে গাছটি কাটা হয়।
তবে হাসেম আলীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত একাধিকবার তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
ভিতরবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও নাগেশ্বরী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সফিউল আলম সফি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ গাছটি কাটার জন্য ইউনিয়ন পরিষদে আবেদন করা হয়েছিল। গতকাল ও আজ দুই দিনে ঘরের মালিক গাছটি কেটেছেন। এ সময় জেলা পরিষদের কেয়ারটেকার আব্দুল মজিদ উপস্থিত ছিলেন। কাটা গাছের প্রায় ১৫টি গুঁড়ি কাশেমের দায়িত্বে রাখা হয়েছে।
তবে চেয়ারম্যানের বক্তব্য অস্বীকার করেছেন জেলা পরিষদের কেয়ারটেকার আব্দুল মজিদ। তার ভাষ্য, তার উপস্থিতিতে কোনো গাছ কাটা হয়নি। কাটা গাছের গুঁড়ি জেলা পরিষদে নিয়ে আসার জন্য তাকে পাঠানো হয়েছে।
জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা ফিরুজুল ইসলাম গাছ কাটার বিষয়টি জানতেন কি না, জানতে চাইলে কেয়ারটেকার আব্দুল মজিদ প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
জেলা পরিষদের প্রশাসক হোসেল হোসাইন কায়কোবাদ জানান, কে বা কারা গাছটি কেটেছে, তা তিনি জানেন না। বিষয়টি জানার পর তিনি নাগেশ্বরীর ইউএনওকে ফোন করেছেন। গাছগুলো জব্দ করে জেলা পরিষদে নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
নাগেশ্বরী উপজেলা ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা শাহিন বলছিলেন, সাংবাদিকের মাধ্যমে তিনি বিষয়টি জেনেছেন। গাছটির কোনো নিলাম হয়নি বলেও জানান তিনি।
নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, ‘আমরা গাছটি কাটা অবস্থায় পেয়েছি। এটি জেলা পরিষদের গাছ হওয়ায় তাদের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছি।’ তবে কে বা কারা গাছটি কেটেছে, সে বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি সম্পত্তির গাছ কাটার ক্ষেত্রে যথাযথ অনুমোদন নেওয়া হয়েছে কি না, তা তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি তাদের।
গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এদিকে গাছ কাটা নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। চেয়ারম্যানের দাবি, গাছ কাটার অনুমতি ছিল। জেলা পরিষদের কেয়ারটেকারের দাবি, তার উপস্থিতিতে গাছ কাটা হয়নি। আবার প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বক্তব্যেও আগে থেকে বিষয়টি জানার প্রমাণ নেই।
প্রশাসনের অজান্তে দুই দিন ধরে কীভাবে একটি শতবর্ষী সরকারি গাছ কাটা হলো, সেটিই এখন স্থানীয়দের প্রধান প্রশ্ন।




