এইচএসসির খাতা কলেজছাত্রদের হাতে, ভিডিও ভাইরাল

রাঙ্গাবালীর একটি কলেজে ছাত্রদের এইচএসসির খাতা দেখার ভিডিও থেকে নেওয়া ছবি।
পটুয়াখালীতে এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র ভরাট করছে কয়েকজন কলেজছাত্র— এমন এক ভিডিও ছড়িয়েছে ফেসবুকে। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল রবিবার দুপুরে রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোটবাইশদিয়া বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজে। অধ্যক্ষের ভাষ্য, দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক খাতা দেখার নিয়ম জানেন না বলে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।
ভিডিওতে দেখা গেছে, কলেজের একাদশ শ্রেণির কয়েক শিক্ষার্থী একটি ক্লাসরুমে বসে এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র ভরাট করছে। তাদের বলতে শোনা যায়, কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষক মো. রিপন তাদের উত্তরপত্রের খালি ঘর ভরাট করতে বলেছেন।
ভিডিও দেখার পর ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা। তাদের একজন মো. শাহ আলম মিয়ার কথা, ‘একাদশ শিক্ষার্থীদের দিয়ে এইচএসসি পরীক্ষার খাতা দেখানো খুবই লজ্জাজনক ঘটনা। শিক্ষাব্যবস্থার হাল যদি এমন হয়, তাহলে আমরা আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যত নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন।’
ওই প্রতিষ্ঠানের এক পরীক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, ‘আমি তো রীতিমতো হতাশ। এত কষ্ট করে পরীক্ষা দিলাম, অথচ জুনিয়র ছাত্ররা আমাদের খাতা মূল্যায়ন করছে— এর চেয়ে মন্দ আর কী হতে পারে? জানি না ওই খাতার মধ্যে আমারটাও আছে কি না?’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বাংলা বিভাগের শিক্ষক রিপন মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তবে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. শাহ মানজুর। তার ভাষ্য, ‘আমি রিপনকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি আমাকে জানিয়েছেন যে, খাতা দেখার সময় সে হঠাৎ ওয়াশরুমে যায়। তখন কয়েকজন ছেলে ওই খাতাগুলো ভরাট করেছে।’
রিপন তাদের উত্তরপত্র ভরাট করতে বলেছেন— ভিডিওতে শিক্ষার্থীদের এমন দাবির বিষয়ে অধ্যক্ষ বললেন, ‘আমি বিষয়টা ওইভাবে জেনেছি। তা ছাড়া স্যারে বলছে তার হাতে সময় কম ছিল, তখন কয়েকটা খাতা দেখতে দিয়েছে কি না, তা আমি খতিয়ে দেখছি।’
ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, জানতে চাইলে তার কথা, ‘আসলে কী বলব বলেন, ওনারা (শিক্ষক) একদম নতুন। জয়েন করেছেন মাত্র কয়েক দিন আগে। খাতা মূল্যায়নের বিষয়টা ভালোভাবে জানেও না তারা। তারপরেও বিষয়টি আমি ভালোভাবে খতিয়ে দেখে নেই আগে।’
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মজিবর রহমান জানিয়েছেন, বোর্ড পরীক্ষার উত্তরপত্র সম্পূর্ণ গোপনীয় বিষয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত ছাড়া অন্য শিক্ষকদেরও পরীক্ষার খাতা দেখার কোনো সুযোগ নেই। ওই শিক্ষকের বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন তিনি।







