গঙ্গাচড়া
একমাত্র ছেলেকে বাঁচাতে বাবার শেষ সম্বলও শেষ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ভ্যান চালিয়ে সংসার চালান রঞ্জিত রায়। অভাবের সংসারে চার ছেলে-মেয়েকে নিয়ে তার স্বপ্ন ছিল সন্তানদের পড়াশোনা করিয়ে মানুষ করবেন। সেই স্বপ্নের সবচেয়ে বড় ভরসা ছিল একমাত্র ছেলে ধনঞ্জয় রায়। বয়স মাত্র ১৩ বছর। পঞ্চম শ্রেণির এই শিক্ষার্থী এখন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন। ছেলের চিকিৎসা করাতে গিয়ে জমানো টাকা শেষ, হয়েছে ধারদেনাও। এখন চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছেন বাবা-মা।
রংপুরের গঙ্গাচড়ার কোলকোন্দ ইউনিয়নের আলেকিসামত গ্রামের বাসিন্দা রঞ্জিত রায় ও নলিতা রানীর চার ছেলে-মেয়ের মধ্যে ধনঞ্জয় একমাত্র ছেলে। মটুকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ত সে। পড়াশোনা করে বড় হওয়ার স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু প্রায় চার মাস আগে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার পর সেই স্বপ্নে যেন থমকে গেছে পরিবারটির জীবন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, অসুস্থ হওয়ার পর ধনঞ্জয়কে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার ব্রেন টিউমার ধরা পড়ে। পরে অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর করা কয়েকটি পরীক্ষার প্রতিবেদন প্রায় ১৫ থেকে ২০ দিন আগে হাতে পায় পরিবার। তখন জানতে পারে, ধনঞ্জয় ক্যানসারে আক্রান্ত। এরপর থেকে ছেলের চিকিৎসার জন্য ছুটছেন রঞ্জিত ও নলিতা। ভ্যান চালিয়ে যে আয় হয়, তা দিয়ে সংসার চালানোর পর চিকিৎসার খরচ জোগানো সম্ভব নয়। জমানো টাকা খরচ করেছেন, আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ধারও করেছেন। এ পর্যন্ত প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবার। চিকিৎসা চালিয়ে যেতে আরও প্রায় চার থেকে পাঁচ লাখ টাকা প্রয়োজন।
রঞ্জিত রায় বলেন, ‘আমি ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাই। চার ছেলে-মেয়ের মধ্যে ধনঞ্জয়ই আমার একমাত্র ছেলে। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী এতদিন চিকিৎসা করিয়েছি। এখন আর পারছি না। আমার ছেলেকে বাঁচাতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।’
রঞ্জিত ও নলিতা রানীর বসবাস তিস্তা নদীর পানি উন্নয়ন বোর্ডের শহর রক্ষা বাঁধের বড়পিঠে। সেখানে কোনো রকমে বসবাস করে আসছে পরিবারটি। সীমিত আয়ের এই পরিবারের কাছে সন্তানের চিকিৎসার কয়েক লাখ টাকা এখন বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ছেলের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে প্রশাসন, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী ও সহৃদয়বান মানুষের কাছে সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন ধনঞ্জয়ের বাবা-মা।
তাদের আশা, সম্মিলিত সহযোগিতায় আবারও চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারবেন তারা, ফিরে আসতে পারে তাদের একমাত্র ছেলের স্বাভাবিক জীবন। সহায়তা পাঠানোর মাধ্যম: বিকাশ/নগদ: ০১৮০৬৯০২০১৫।




