সমাজকল্যাণমন্ত্রী
বাজেটে স্বাস্থ্য খাতকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে

সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গঠনে ইউনানী, আয়ুর্বেদিক ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার ভূমিকা শীর্ষক কর্মশালায় সমাজকল্যাণমন্ত্রী— সংগৃহীত
দেশের সব মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বাজেটে স্বাস্থ্য খাতকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়কমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
তিনি বলেছেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নীতির ধারাবাহিকতায় আধুনিক চিকিৎসার পাশাপাশি ইউনানি, আয়ুর্বেদিক ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা ও সেবার উন্নয়নেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।’
আজ বুধবার ঢাকায় ফার্মগেটের কেআইবিতে ইউনানি আয়ুর্বেদিক গ্রাজুয়েট ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আগড্যাব) আয়োজিত ‘সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গঠনে ইউনানি, আয়ুর্বেদিক ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালা ও চিকিৎসক সমাবেশে এসব কথা বলেছেন তিনি।
‘এ দেশে ১৮০ মিলিয়ন মানুষ। এই বেশিরভাগ জনসংখ্যা কোনো না কোনোভাবে এই চিকিৎসা পদ্ধতিগুলোর ওপর নির্ভরশীল, যা আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ রূপে ব্যবহৃত হচ্ছে। তিনি অ্যালোপ্যাথির পাশাপাশি বাংলাদেশে প্রচলিত চার ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতির মধ্যে এই তিন ধরনের চিকিৎসা সেবা দিয়ে মানুষের মনে বিশ্বস্ততার জায়গা করে নিতে গুরুত্বারোপ করেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী।
কর্মশালা ও চিকিৎসক সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হোমিও ও দেশজ চিকিৎসার পরিচালক ডা. ফরিদা ইয়াসমিন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোটের মহাসচিব রফিকুল ইসলাম, দেশের প্রখ্যাত ইউনানি, আয়ুর্বেদিক ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক, শিক্ষাবিদ ও নীতিনির্ধারকরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আগড্যাবের সভাপতি ডা. মির্জা লুৎফুর রহমান লিটন। স্বাগত বক্তব্য এবং অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আগড্যাবের মহাসচিব ডা. আমিনুল বারী কানন।
মন্ত্রী বললেন, ‘দেশে প্রচলিত অ্যালোপ্যাথির পাশাপাশি ইউনানি, আয়ুর্বেদিক ও হোমিওপ্যাথিক— এই চার পদ্ধতির সবারই নিজস্ব ক্ষেত্র থেকে অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে। তবে ইউনানি ও আয়ুর্বেদিকের তুলনায় দেশে হোমিওপ্যাথির প্রচলন বর্তমানে বেশি। মানুষ এখন হারবাল মেডিসিনের প্রতিও উৎসাহিত হচ্ছে এবং হামদর্দ এখনো সুনামের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।’
বিগত সরকারের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেছেন, এ দেশের মানুষের প্রতি তাদের কোনো দায়বদ্ধতা ছিল না। বাংলাদেশের টিকাদান কর্মসূচির মতো অনেক ইতিবাচক উদ্যোগ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় শুরু হয়েছিল। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) তারই একটি উদাহরণ। কিন্তু বিগত সরকারের সময়ে অবহেলার কারণে আজ হামের মতো রোগ উদ্বেগজনক আকারে দেখা দিয়েছে।
জাহিদ হোসেনের মত, এই চিকিৎসাবিজ্ঞানের আরও উৎকর্ষ সাধন প্রয়োজন। আরও গবেষণা হওয়া উচিত, স্নাতকোত্তর শিক্ষা সম্প্রসারণ করা উচিত এবং এর পরিধি বাড়ানো উচিত। গবেষণার মাধ্যমে যদি এই চিকিৎসা ব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়ানো যায়, তাহলে মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।





