ছিনতাইয়ের ঘটনায় কৃষক দলের নেতাসহ গ্রেপ্তার ৩

গ্রেপ্তার ৩ জন
নওগাঁর মহাদেবপুরে সড়কে ৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় উপজেলা কৃষক দলের ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রবিনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া ৯ লাখ ৩ হাজার টাকা এবং ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ বুধবার বিকাল ৩টায় নওগাঁ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
গ্রেপ্তার অন্য দুজন হলেন মহাদেবপুর উপজেলার রামচন্দ্রপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে মুন্না (২৪) এবং ডিমজাউন গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে সোহেল রানা (২৫)। সোহেল ওই পিকআপের চালক। মুন্নার বিরুদ্ধে চুরিসহ আরও দুটি মামলা রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার রাত পৌনে ৮টার দিকে নওগাঁ-মহাদেবপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের মহাদেবপুরের চৌদ্দমাইল ব্রিজ এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার রাঘববাড়িয়া গ্রামের আব্দুল বারি মণ্ডলের ছেলে আব্দুল আলিম (৩৪) মহাদেবপুরের সদরে সরকারি গোডাউনের পাশে নাসির মাস্টারের দোকানঘর ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভাঙারির ব্যবসা করছেন।
মঙ্গলবার তার দোকানের ব্যবস্থাপক ও চাচাতো ভাই মজনু মিয়া (৩৫) এবং পিকআপচালক সোহেল রানা বগুড়া থেকে ভাঙারি মালামাল বিক্রির ৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা নিয়ে মহাদেবপুরে ফিরছিলেন। পথে চৌদ্দমাইল ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে পিকআপটি বিকল হয়ে যায়। এ সময় মোটরসাইকেলে আসা ছিনতাইকারীরা চালক সোহেলকে হালকা মারধর করে। তারা ম্যানেজার মজনু মিয়াকে ব্যাপক মারধর করে টাকাভর্তি ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায়।
তাদের চিৎকার শুনে স্থানীয় পথচারীরা এগিয়ে এসে আহত দুজনকে উদ্ধার করেন। পরে তাদের মহাদেবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে মজনু মিয়ার অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনার পরপরই মহাদেবপুর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) যৌথ অভিযান শুরু করে। পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় প্রযুক্তিগত সহায়তা, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে রাতভর অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে প্রথমে মুন্নাকে তার গ্রামের বাড়ি রামচন্দ্রপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার বাড়ি থেকে ছিনতাই হওয়া ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মুন্নার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রবিনকে তার ভাড়া বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বাসা থেকে আরও ৩ লাখ ৯৩ হাজার টাকা এবং ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। পরে গ্রেপ্তার দুই আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নওগাঁ সদর হাসপাতাল থেকে পিকআপচালক সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ছিনতাইয়ের অন্যতম পরিকল্পনাকারী ছিলেন পিকআপচালক সোহেল রানা ও মুন্না। আর ছিনতাইয়ের ঘটনায় প্রধান ভূমিকা পালন করেন রবিন। তারা তিনজন মিলে গত এক সপ্তাহ ধরে এ ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করছিলেন।
তিনি আরও বলেন, নওগাঁ জেলা পুলিশ সড়কে যেকোনো ধরনের অপরাধ, বিশেষ করে ছিনতাই ও ডাকাতি প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এসব অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে উপজেলা কৃষক দলের ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রবিনের গ্রেপ্তারের বিষয়ে উপজেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মতি বলেন, রবিনকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।



