২০০০০ কোটি টাকার মাশুল
- শাহজিবাজার কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ
- ৫৮০ মেগাওয়াট সক্ষমতায় গ্যাসসংকটে উৎপাদন মাত্র ১৭০ মেগাওয়াট

সংগৃহীত ছবি
অগ্নিকাণ্ডের চার বছর তিন মাস পরও পুরোপুরি উৎপাদনে ফেরেনি হবিগঞ্জের শাহজিবাজার ৩৩০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। এ সময়ে বিকল্প ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে বাড়তি ব্যয় হয়েছে অন্তত ২০ হাজার কোটি টাকা। সম্প্রতি প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা বাড়তি ব্যয় কমার সম্ভাবনা দেখা দেয় ১১০ মেগাওয়াট উৎপাদন শুরু হওয়ার মধ্য দিয়ে। কিন্তু এরই মধ্যে সাম্প্রতিক গ্যাসসংকট তলানিতে নামিয়ে দিয়েছে সেই উৎপাদন। বর্তমানে পুরো প্ল্যান্টে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ৯৫ মেগাওয়াট।
অন্যদিকে, শাহজিবাজারের সরকারি-বেসরকারি চারটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ৫৮০ মেগাওয়াট হলেও গ্যাসসংকটে বর্তমানে এসব কেন্দ্রে উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ১৭০ মেগাওয়াট, যা মোট সক্ষমতার ২৯ দশমিক ৩ শতাংশ। ফলে অব্যবহৃত রয়েছে প্রায় ৭১ শতাংশ সক্ষমতা।
জানা গেছে, ২০২২ সালের ২৯ মে অগ্নিকাণ্ডে দুটি ট্রান্সফরমার পুড়ে বন্ধ হয়ে যায় কেন্দ্রটির ৩৩০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্ল্যান্ট। মেরামতে ৫০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও অনুমোদন মেলেনি। পরে ২০২৩ সালে নিজস্ব অর্থায়নে মেরামতের উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। মেরামত শেষে ২০২৫ সালের মার্চে ১১০ মেগাওয়াট উৎপাদনে ফেরার কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। অবশেষে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রটি আংশিকভাবে (১১০ মেগাওয়াট) চালু হয়।
এভাবে চলতে থাকার মধ্যেই গত বুধবার রাতে হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় গ্যাস টারবাইন। এ ঘটনায় উৎপাদন নেমে এসেছে ৯৫ মেগাওয়াটে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক হাফিজুর রহমানের ভাষ্য, অগ্নিকাণ্ডের পর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২০০ মেগাওয়াট আগে থেকেই বন্ধ ছিল। চালু থাকা ১১০ মেগাওয়াটের উৎপাদনও গত বুধবার থেকে ৯৫ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে গ্যাসসংকটের কারণে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গ্যাসভিত্তিক এ কেন্দ্রে বছরে কমবেশি ৯০ কোটি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। সাধারণত প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হয় প্রায় ৫ টাকা। কেন্দ্রটি বন্ধ থাকলেও জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হয়েছে। এতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতে অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে ২০ টাকা। চার বছর তিন মাস সেখানে উৎপাদন বন্ধ থাকায় বিকল্প ব্যবস্থায় প্রতি ইউনিটে ব্যয় হয়েছে ২৫ টাকা।
উৎপাদন কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের পর মেরামত প্রকল্প অনুমোদনের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় প্রথম চার বছরে সরকারের প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে। এরপর ১১০ মেগাওয়াট উৎপাদন শুরু হওয়ায় বছরে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয় কমে। তবে ১১০ মেগাওয়াটেও পূর্ণ উৎপাদনে ফেরার পথে এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে গ্যাসসংকট। পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে ৩৩০ মেগাওয়াট সক্ষমতার কেন্দ্রটি পুরোপুরি কাজে লাগানো কঠিন হবে।
জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডের (জেজিটিডিএসএল) শাহজিবাজার কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক খালেদ গনি আগামীর সময়কে বললেন, চারটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রতিদিন ১০২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন। কিন্তু গ্যাসের চাপ কম থাকায় অনেক শিল্পকারখানায় সরবরাহ বন্ধ রেখেও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে দেওয়া যাচ্ছে মাত্র ৪৮ মিলিয়ন ঘনফুট। তার ভাষ্য, গ্যাসসংকটের কারণে শিল্পকারখানার কর্মকর্তারাও নিয়মিত কার্যালয়ে এসে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর জন্য যোগাযোগ করছেন।
দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ও উৎপাদনের ব্যবধানও বেড়েছে। বিপিডিবির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াট। বিপরীতে উৎপাদন সক্ষমতা ও জ্বালানি সংকটের কারণে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহে চাপ রয়েছে। ফলে বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিংও হচ্ছে।






