ময়নাতদন্তের জন্য জুলাই শহীদের মরদেহ তোলায় পরিবারের বাধা

ফাইল ছবি
আদালতের নির্দেশে ময়নাতদন্তের জন্য জুলাই শহীদ কবির হোসেনের মরদেহ তোলায় আপত্তি জানিয়েছে তার পরিবার। কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কবরস্থান থেকে মরদেহ তুলতে গিয়েও ফিরে যান প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের কিশোরীনগর কবরস্থানে মঙ্গলবার দুপুরে ঘটে এ ঘটনা। নিশ্চিত করেছেন দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান।
তিনি জানালেন, ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় ৫ আগস্ট ঢাকার উত্তরা এলাকায় গুলিতে নিহত হন কিশোরীনগর গ্রামের কবির হোসেন (৫০)। ব্যবসার কাজে তিনি পরিবার নিয়ে থাকতেন উত্তরায়। ময়নাতদন্ত ছাড়াই সে সময় তার মরদেহ গ্রামে এনে কিশোরীনগর কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর প্রায় দেড় বছর পর ২০২৫ সালের ১৪ নভেম্বর উত্তরা পশ্চিম থানায় হত্যা মামলা করে পরিবার।
মামলার তদন্তে আদালতের নির্দেশ আসে মরদেহ ময়নাতদন্তের। মরদেহ তুলতে মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা পশ্চিম থানার একটি দল পৌঁছায় কিশোরীনগর কবরস্থানে। কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের জুডিশিয়াল মুন্সিখানা ও গোপনীয় শাখার সহকারী কমিশনার এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকিউল আলমও উপস্থিত হন। ছিলেন দৌলতপুর থানা পুলিশ ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. এমদাদুল হক টোটনও।
তবে কবিরের স্ত্রী সালমা খাতুন ও পরিবারের সদস্যরা মরদেহ তোলায় আপত্তি জানান। জেলা প্রশাসকের কাছে মরদেহ উত্তোলন স্থগিতের আবেদনও জমা দেন। পরে প্রশাসন কার্যক্রম স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেন বলে জানান ওসি খালেদুর রহমান। বললেন, ‘পরিবারের আপত্তির কারণে মরদেহ উত্তোলন সম্ভব হয়নি।’
সালমার ভাষ্য, ‘আমার স্বামী তো মরেই গেছে। এতোদিন পর তার মরদেহ কবর থেকে তুলে কী হবে। আমরা ময়নাতদন্ত চাচ্ছি না। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করা হয়েছে।’
তার কথা, ‘লাশ না তুলে যেভাবে বিচারকাজ করা যায়, সেভাবেই করা হোক। ঘটনার ভিডিও আমাদের কাছে আছে। উত্তরায় এলাকার লোকজনও জানেন ঘটনা। ময়নাতদন্তের প্রয়োজন নেই।’




