আগামীর সময়

হামের প্রাদুর্ভাব

শেবাচিম হাসপাতালে ২০ বেডের শিশু ওয়ার্ড, রোগী ভর্তি ৮৮

শেবাচিম হাসপাতালে ২০ বেডের শিশু ওয়ার্ড, রোগী ভর্তি ৮৮

ছবিঃ আগামীর সময়

হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ার পর থেকেই বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) বৃদ্ধি পেয়েছে শিশু রোগীর সংখ্যা। হাসপাতালের ২০ বেডের শিশু ওয়ার্ডে এখন দম ফেলানোর জায়গা নেই। এক বেডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে ২ থেকে ৩ জন শিশুকে। আর বেড না পেলে হাসপাতালের মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এ অবস্থায় ক্ষুদ্ধ শিশু রোগীর অভিভাবকরা।

বরিশাল শেবাচিম হাসপাতাল সূত্র জানায়, মূল শিশু ওয়ার্ডে রয়েছে ২০টি বেড। রোগী ভর্তি হয়েছে ৪২ জন। নতুন করে চালু করা একটি কক্ষে অতিরিক্ত রোগী ভর্তি হয়েছে ৬৬ জন। হঠাৎ করে রোগীর চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় হিমশিম খেতে হচ্ছে নার্স ও চিকিৎসকদের।

রোগীর স্বজনরা মনে করছেন, হাসপাতালে শিশুদের সুচিকিৎসার জন্য আরও বেডের ব্যবস্থা জরুরি। এক বেডে ২-৩ জনকে একসাথে চিকিৎসা দেওয়াটা বিপদজনক।

বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মনির বলেছেন, শিশুদের চিকিৎসার জন্য তিনটি পৃথক আইসোলেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে বেড সংকটের সমস্যা।

এ দিকে গত তিন মাসে বরিশাল বিভাগে হাম আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৮ শিশুর। নতুন করে গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে ১১৫ শিশু বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম রোগের উপসর্গ নিয়ে শেবাচিম হাসপাতালে ৫৪ জন, বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় ২ জন, বরিশাল জেলায় ১৫, পটুয়াখালীতে ১৩, ভোলায় ১২, পিরোজপুরে ৫ ও বরগুনায় ১৪ জন ভর্তি হয়েছে।

বরিশাল বিভাগে সন্দেভাজন হাম রোগীর সংখ্যা ৩৮৫ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৬৩ জন।

হাম রোগের প্রাদুর্ভাব রুখতে সচেতনতা প্রয়োজন। বরিশাল বিভাগে হঠাৎ করে এর প্রাদুর্ভাব বেড়েছে, যা খুবই উদ্বেগজনক। যেসব শিশুদের হামের টিকা দেওয়ায় হয়নি তাদের দ্রুত টিকা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল।

    শেয়ার করুন: