বগুড়ায় রঙ-সুরের ক্যানভাসে বহুমাত্রিকের বর্ষপূর্তি

ছবি আঁকায় মগ্ন এক খুদে শিল্পী। আগামীর সময়
‘রঙে-সুরের ক্যানভাসে বহুমাত্রিক’ এ স্লোগানকে সামনে রেখে আত্মপ্রকাশের এক বছর পূর্ণ করল সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘বহুমাত্রিক ফাউন্ডেশন’।
গতকাল রবিবার বগুড়ায় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক আড্ডার মধ্য দিয়ে দিনটি উদ্যাপন করেছে সংগঠনটির জেলা শাখা। নগরীর রোচাস রেস্তোরাঁর কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত হয় এ আয়োজন।
প্রতিযোগিতার আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বগুড়া জিলা স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক ও সাবেক শিক্ষা কর্মকর্তা হযরত আলী।
তিনি জানান, ডিজিটাল যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিশুদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে চিত্রাঙ্কনসহ সহশিক্ষা কার্যক্রমে গুরুত্ব দিতে হবে। আগামী প্রজন্মকে যোগ্য ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে অভিভাবকদেরও দায়িত্বশীল ভূমকা পালন করতে হবে।
বাংলাদেশ শিশু একাডেমির বগুড়া জেলার সদস্য ও বগুড়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কালাম আজাদ বলেছেন, ‘আজকের শিশু মানেই আগামীর ভবিষ্যৎ। তারাই আগামীতে নেতৃত্ব দিবে। এ জন্য তাদের মননশীলতা বৃদ্ধিতে ও সুষ্ঠু মানসিকতা বিকাশে কাজ করতে হবে আমাদেরই। আর এ কাজে প্রকৃতপক্ষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন সন্তানদের মা। আপনাদের এসব উদ্যোগ এই শিশুদের সুন্দর মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে।’
শিশুদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে চিত্রাঙ্কন গুরুত্বপূর্ণ এমন মন্তব্য করে নারী উদ্যোক্তা তাহমিনা পারভীন শ্যামলী জানিয়েছেন, তাদের নৈতিক শিক্ষা, বড়দের প্রতি সম্মান ও মানবিক মূল্যবোধ শেখাতে অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে।
বর্ষপূর্তি উপলক্ষে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন প্রায় অর্ধশতাধিক শিশু-কিশোর। প্রতিযোগিতায় তিনটি গ্রুপে ৯ জনকে পুরস্কার দেওয়া হয়। ‘ক’ বিভাগের (শিশু থেকে প্রথম শ্রেণি) বিজয়ীরা হলেন— উচ্ছ্বাস চৌধুরী, সৌম্য জিৎ বিভান, অধিশ্রেয়া পাল। ‘খ’ বিভাগের (দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি) বিজয়ীরা হলেন— নাবিলা ফারহানা লুনা, রাদিয়া নাওয়াল খান ও প্রিয়ন্তী নন্দী। ‘গ’ বিভাগের (ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি) বিজয়ীরা হলেন— অনিকা গৌড়, প্রত্যাশা সরকার পিহু, স্নেহা মানী।
প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন নওগাঁ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আবদুল মোমিন সুজন, বিয়াম মডেল স্কুল ও কলেজের প্রভাষক আবু লায়েছ নিক্সন এবং সাতরং আর্ট স্কুলের পরিচালক চন্দন কুমার রায়।
সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মো. আল্ গালিব খাঁন, রওনক হাসান হিমেল, রাহুল স্মরণ, আনিশা ও জাওয়াদ। পুরস্কার বিতরণ ও কেক কাটার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বহুমাত্রিক ফাউন্ডেশন বগুড়া কমিটির সভাপতি জিয়াউল ইসলাম প্লাবন। সঞ্চালনা করেন ঢাকাস্থ বহুমাত্রিক ফাউন্ডেশনের ক্রিড়া ও স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক মো. নাজমুল হোসাইন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ শাব্বাব আল দ্বীন কাব্য। আয়োজনের সহযোগিতায় ছিলেন আবেদ টেক্সটাইল লিমিটেড।
অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন দৈনিক আগামীর সময়ের বগুড়া জেলা প্রতিনিধি আসাফ-উদ-দৌলা নিওন, দুপচাঁচিয়া প্রতিনিধি আশেকুর রহমান ও শাজাহানপুর প্রতিনিধি মিজানুর রহমান।
এ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন বহুমাত্রিক ঢাকা কমিটির সহসভাপতি কামরুন নাহার খেয়া, বগুড়া বহুমাত্রিকের উপদেষ্টা গাবতলী শহীদ জিয়া মডেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক শাম্মী আকতার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. নকিব হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সায়েম নিশাত, অর্থ সম্পাদক শামীম আহমেদ, দপ্তর সম্পাদক আফরিনা মাহিশা, প্রচার সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌসি প্রিয়সী, সাজ্জাদ, প্রমিত, মোহনা, জিনিয়া, কাদের, সাদিক প্রমুখ।






