ঈদের আগের রাতে ছাত্রদলের দুই পক্ষে সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ২

ছবি: আগামীর সময়
ঈদের আনন্দ যখন সবার ঘরে ঘরে, ঠিক তখনই গাজীপুরের কালীগঞ্জে ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল রূপ নিল সংঘর্ষে। দুপক্ষের এই সংঘাত ও গোলাগুলিতে ছাত্রদলের এক নেতাসহ দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও একজন।
বুধবার (২৭ মে) রাত সোয়া ১০টার দিকে কালীগঞ্জ বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ হাঙ্গামার ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে ডান পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন কালীগঞ্জ পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মেরাজ হাসান রানা (২৫)। তিনি পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বালীগাঁও গ্রামের সিদ্দিকের ছেলে। একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা সিয়াম (২৫)। তিনি ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মুনশুরপুর গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে। এ ছাড়া লাঠিসোঁটার আঘাতে আহত হয়েছেন পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব ইমরান হোসেন সৈকত (২৯)।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত হয় ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়কে কেন্দ্র করে। বুধবার রাতে গাজীপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শরীফুল ইসলাম তুহিন তার অনুসারীদের নিয়ে কালীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আসেন। তিনি সেখানে স্থানীয় সিএনজি ও ইজিবাইক চালকদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করছিলেন এবং তাদের নতুন জামা-কাপড় দিচ্ছিলেন। এই খবর পেয়ে পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব ইমরান হোসেন সৈকতের শ্যালক মেরাজ হাসান রানা তার সমর্থকদের নিয়ে সেখানে হাজির হন।
কিছুক্ষণ পরই উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং দুই পক্ষ লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালে হঠাৎ কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দে পুরো বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আহত পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব ইমরান হোসেন সৈকত অভিযোগ করে বললেন, 'তুহিনের লোকজনরাই আমাদের ওপর অতর্কিত গুলি ছুড়েছে।' তিনি আরও দাবি করেন, তুহিন মাত্র গতকালই ইতালি থেকে দেশে ফিরেছেন এবং দেশে ফিরেই এই রক্তক্ষয়ী ঘটনার সূত্রপাত ঘটিয়েছেন।
অবশ্য এই বিরোধের পেছনে একটি পুরোনো শত্রুতার জের রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র। কয়েক দিন আগে জামালপুর এলাকায় ইমরান হোসেন সৈকতকে তুহিনের ভাতিজা লাঞ্ছিত করেছিলেন। ওই ঘটনার পর থেকেই দুপক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি হুমকি-ধমকি চলছিল, যার চূড়ান্ত বিস্ফোরণ ঘটল ঈদের আগের রাতে।
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক রাবেয়া নার্গিস জাহান জানালেন, 'পায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। আমরা তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) পাঠিয়েছি।'
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন জানান, ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অস্ত্রের আলামত পাওয়া যায়নি। অন্ধকারে হট্টগোল হওয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে জড়িতদের খুঁজে বের করতে এবং গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে।
পুলিশ আরও জানায়, অভিযুক্ত তুহিনের বিরুদ্ধে থানায় আগে থেকেই একাধিক মামলা রয়েছে।






