ভুড়ভুড়িয়ার কাশবন টানছে সবাইকে

ছবি: আগামীর সময়
শরতের নীল আকাশ, সাদা মেঘের ভেলা আর সবুজ চা-বাগানের ফাঁকে ফাঁকে শুভ্র কাশফুল। প্রকৃতির এমন মায়াবী রূপ দেখতে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভুড়ভুড়িয়া ছড়ার পাড়ে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। ভানুগাছ সড়কের পাশে ছড়াটির বিস্তীর্ণ বালুচরজুড়ে ফুটে থাকা কাশফুল ঘিরে তৈরি হয়েছে সাময়িক এক প্রাকৃতিক আকর্ষণ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা প্রকৃতিপ্রেমীরাও বিকেল হলেই এখানে ছুটে আসছেন। পরিবার, বন্ধু ও প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানোর পাশাপাশি অনেকেই কাশফুলের সঙ্গে ছবি তুলছেন। কেউ মুঠোফোনে, কেউবা ক্যামেরায় ধরে রাখছেন প্রকৃতির এই শুভ্র মুহূর্ত। পরে সেসব ছবি ছড়িয়ে পড়ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, ভুড়ভুড়িয়া ছড়ার দুই পাশে বিস্তীর্ণ বালুচরে সারি সারি কাশফুল বাতাসে দুলছে। পাশেই ছোট ছোট টিলা ও সবুজ চা-বাগান। সবুজের মাঝে সাদা কাশফুলের সমারোহে পুরো এলাকাটি হয়ে উঠেছে নয়নাভিরাম। ভানুগাছ সড়কের পাশেই হওয়ায় পথচারী ও ব্যক্তিগত গাড়িতে আসা অনেকেই কিছু সময়ের জন্য সেখানে থামছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিবছর আগস্টের মাঝামাঝি সময় থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ এলাকায় কাশফুল ফুটতে দেখা যায়। এ সময়ে বিশেষ করে প্রতিদিন বিকেলে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বাড়ে। সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিনগুলোতে ভিড় তুলনামূলক বেশি থাকে।
কাশফুল দেখতে আসা লাবণ্য দাশ লাবু বলেন, গত বছরও তিনি এখানে এসেছিলেন। এবারও মানসিক প্রশান্তি ও কাশফুলের শুভ্রতা উপভোগ করতে এসেছেন। তাঁর ভাষায়, প্রতিবছরই এ এলাকায় কাশফুল ফোটে। বিকেলে কাশবনের পাশে এলে মন ভালো হয়ে যায়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে বন্ধুদের সঙ্গে মোটরসাইকেলে ঘুরতে এসেছেন মোবারক হোসেন। তিনি বলেন, চা-বাগানের সবুজ আর সাদা কাশফুলের শুভ্রতার সঙ্গে এখানকার শান্ত পরিবেশ উপভোগ করতেই তাদের আসা। জায়গাটি তাদের ভীষণ ভালো লেগেছে। তারা ছবি তুলেছেন।
চট্টগ্রাম থেকে আসা বৃষ্টি বলেন, আমরা বেড়াতে শ্রীমঙ্গল আসছি। পরে জানতে পারলাম এখানে কাশফুলের বাগান রয়েছে। তাই দেখতে গেলাম।
কাশফুলের সমারোহে বিকেলের বাতাসে শীতের আগমনের মতো একটা অনুভূতি তৈরি হয়। চা-বাগানের সবুজের সঙ্গে সাদা কাশফুল মিলে জায়গাটিকে অন্য রকম করে তুলেছে। গোধূলির সময় বাতাসে কাশফুল দোলার দৃশ্য আরও বেশি আকর্ষণীয় লাগে। এতে শৈশবের অনেক স্মৃতিও মনে পড়ে যায়।
রাধানগর ট্যুরিজম এন্টারপ্রেনার অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি তাপস দাশ বলেন, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর এই দুই মাস কাশফুলের মৌসুমে ভুড়ভুড়িয়া ছড়ার পাড়ে দর্শনার্থীদের আনাগোনা বাড়ে। শরৎকালের অন্যতম আকর্ষণ কাশফুল দেখতে শ্রীমঙ্গলে বেড়াতে আসা পর্যটকেরাও এখানে ঘুরতে আসেন। এই কাশফুল আগাম বার্তা জানিয়ে দেয় শারদীয়ার। চায়ের রাজধানীতে কাশফুলের শুভ্রতা মিলে জায়গাটির আলাদা সৌন্দর্য তৈরি হয়েছে।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর দ্বীপ চক্রবর্তী জানান, সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও প্রচার করা গেলে মৌসুমি এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য শ্রীমঙ্গলের পর্যটন আকর্ষণ আরও বাড়াতে পারে। তবে কাশফুল দেখতে আসা দর্শনার্থীদের অসচেতন আচরণ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগও রয়েছে। কেউ কেউ কাশফুল ছিঁড়ে ফেলছেন। আবার অনেকে কাশবনের ভেতর দিয়ে এলোপাতাড়ি চলাচল করায় গাছপালা নষ্ট হচ্ছে। এতে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা কাশবনের সৌন্দর্য ও বিস্তৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় প্রকৃতিপ্রেমীরা বলছেন, মানুষের অসচেতনতার কারণে অনেক জায়গা থেকেই কাশবন হারিয়ে যাচ্ছে। তাই ভুড়ভুড়িয়া ছড়ার পাড়ে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা এই কাশবন রক্ষায় দর্শনার্থীদের দায়িত্বশীল আচরণ করা প্রয়োজন। তারা কাশফুল না ছিঁড়ে এবং কাশবনের ভেতরে না ঢুকে দূর থেকে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করার আহ্বান জানান।








