লোকবল অল্প স্বাস্থ্যসেবা স্বল্প
- নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ছবি: ফেসবুক
ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা পেতে বিভিন্ন সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন রোগীরা। ৪৫টি চিকিৎসক পদের মধ্যে সাতটি শূন্য। এ ছাড়া সাতজন চিকিৎসক অন্যত্র সংযুক্তিতে রয়েছেন। একই সঙ্গে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ৩৬টি পদ শূন্য থাকায় হাসপাতালের দৈনন্দিন কার্যক্রমেও দেখা দিয়েছে অচলাবস্থা। নষ্ট হয়ে পড়ে আছে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি। এমনকি হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালক না থাকায় সেটিও নিয়মিত কাজে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে ‘নেই’ আর ‘না থাকা’র মধ্য দিয়েই চলছে উপজেলার প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবা।
হাসপাতালের তথ্য বলছে, বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৪০০-৪৫০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। পাশাপাশি আন্তঃবিভাগে ভর্তি থাকেন ৭০-৮০ রোগী।
এই সংকটের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে জরুরি ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবায়। অর্থোপেডিক, অ্যানেসথেসিয়া, শিশু, হৃদরোগ ও চক্ষু বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবায় প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় রোগীদের অনেক ক্ষেত্রেই অন্যত্র যেতে হচ্ছে। বিশেষ করে জরুরি সময়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না পেয়ে রোগীদের ছুটতে হচ্ছে ঢাকা কিংবা বেসরকারি হাসপাতালে।
সম্প্রতি চিকিৎসা নিতে এসে এমন ভোগান্তির শিকার হয়েছেন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার রোগীরা। কৈলাল ইউনিয়নের মালিকান্দা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহিম হৃদরোগের সমস্যা নিয়ে এসেছিলেন হাসপাতালে। কিন্তু চিকিৎসক না থাকায় তাকে অন্যত্র যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
চক্ষু বিভাগের অবস্থাও একই রকম। বিভাগটির স্লিট ল্যাম্প, রিফ্র্যাকটোমিটার ও কম্পিউটার নষ্ট থাকায় প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং চিকিৎসা দিতে সমস্যা হচ্ছে। এতে চোখের সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীদেরও অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা না পেয়েই ফিরে যেতে হচ্ছে।
বান্দুরা ইউনিয়নের হাড়িকান্দা গ্রামের লতিফ মিয়া চোখের সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে এসেও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি না থাকায় চিকিৎসা নিতে পারেননি।
চিকিৎসকদের অন্যত্র সংযুক্তির বিষয়টিও স্থানীয় মানুষের মধ্যে তৈরি করেছে ক্ষোভ। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সহকারী সার্জন নাসরিন আক্তার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, মেডিকেল অফিসার তানজিদা সুলতানা মিটফোর্ড হাসপাতালে, সহকারী সার্জন মো. জসিম উদ্দিন সরকার নারায়ণগঞ্জের ৩০০ শয্যা হাসপাতালে, সহকারী সার্জন মনিকা খন্দকার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, সহকারী সার্জন মো. শাহিনুর রেজা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে এবং সহকারী সার্জন নাসরুমা ইসলাম ও মেডিকেল অফিসার মো. ইয়াসিন আরাফাত ডিএনসিসি হাসপাতাল, মহাখালীতে সংযুক্ত রয়েছেন।
শুধু চিকিৎসক নয়, হাসপাতালের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর সংকটও কম নয়। তৃতীয় শ্রেণির ১১৮টি পদের মধ্যে ১৯টি এবং চতুর্থ শ্রেণির ২৫টি পদের মধ্যে ১৭টি শূন্য। জনবল সংকটের পাশাপাশি চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতিও বাড়িয়েছে রোগীদের ভোগান্তি। হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ এক্স-রে মেশিনটি দীর্ঘদিন ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। পর্যাপ্ত এক্স-রে ফিল্ম না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে এই সেবা কার্যত বন্ধ। ফলে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে রোগীদের বাইরে থেকে এক্স-রে করিয়ে আনতে হচ্ছে। হাসপাতালে এসে এমন দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন কলাকোপা ইউনিয়নের ছোট রাজপাড়া গ্রামের হাবীয়া বেগম। এক্স-রে করানোর ব্যবস্থা না থাকায় বাইরে থেকেই পরীক্ষা করিয়ে আনতে হয়েছে তাকে।
অবশ্য নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. এস এম সাখাওয়াত হোসেন মনে করেন, যেসব চিকিৎসক সংযুক্তিতে রয়েছেন তাদের কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনা এবং শূন্য পদগুলো পূরণ করা গেলে হাসপাতালে আসা রোগীদের স্বাভাবিক সেবা দেওয়া সম্ভব। বিশেষ করে অ্যানেসথেসিয়া, হৃদরোগ, শিশু, চক্ষু ও মেডিকেল অফিসারের শূন্য পদ দ্রুত পূরণ করা প্রয়োজন। পাশাপাশি তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির শূন্য পদ পূরণ করা হলে হাসপাতালের সামগ্রিক কার্যক্রম আরও স্বাভাবিক হবে।






