জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের এমডি
লুটপাটের সিস্টেম থেকে বেরোতে পারলে পরিবর্তন হবে দেশ

ফতুল্লায় ডিএনডি খাল প্রকল্প পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু- আগামীর সময়
‘লুটপাটের সিস্টেম থেকে বেরোতে পারলে সব জায়গায় সমাধান হবে, দেশ পরিবর্তন হয়ে যাবে। দেশের মানুষ সুফল পাবে। একসময় এ দেশের মানুষও নিজেদের অবস্থান বুঝতে পারবে।’—বলেছেন বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু।
সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ডিএনডি খাল প্রকল্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে কাজী রওনাকুল ইসলাম ফতুল্লার ভূঁইগড় এলাকার রূপায়ণ টাউনের পেছনে ও শাহীবাজার এলাকায় ডিএনডি খালের তীর ঘেঁষে নির্মাণাধীন ওয়াকওয়ের কাজ পরিদর্শন করেন।
প্রকল্পটির পরিবেশগত দিক নিয়ে সন্তুষ্ট কি না জানতে চাইলে কাজী রওনাকুল ইসলাম বলেন, ‘সার্বিক পরিবেশ হিসেবে করলে এতে সন্তুষ্ট না। মানুষের পরিবর্তনেই তো সব কাজ।’ তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট এ প্রকল্পে অর্থায়ন করছে। এর উদ্দেশ্য হলো পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় এলাকাটিকে আরও সহনশীল করা এবং মানুষকে নিরাপদ রাখা। ওয়াকওয়েতে মানুষ হাঁটাচলা করলেও তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
ওয়াকওয়ের পাশে গাছ লাগানো হবে
কাজী রওনাকুল ইসলাম বলেন, দেশে কার্বন নিঃসরণের মাত্রা অনেক বেশি। তা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি প্রকল্প এলাকায় ওয়াকওয়ের পাশে গাছ লাগানো হবে। এসব গাছ কার্বন শোষণে ভূমিকা রাখবে।
এ ছাড়া খালের পানি দূষণ রোধে ময়লা পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ড্রেনের পানি সরাসরি খালে গিয়ে পড়বে। প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় কিছু ত্রুটি থাকলেও সামগ্রিকভাবে কাজটির প্রক্রিয়া ভালো। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে আশপাশের মানুষ এর সুফল পাবেন।
ইটিপি ছাড়া কারখানা চালানো যাবে না
আশপাশের শিল্পকারখানায় বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) স্থাপনের গুরুত্ব তুলে ধরে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের এমডি বলেন, কেন্দ্রীয় ইটিপি স্থাপন ব্যয়বহুল হওয়ায় তা বাস্তবায়ন করা কঠিন। তাই প্রতিটি কারখানায় যত দ্রুত সম্ভব ইটিপি স্থাপন করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘ইটিপি ছাড়া কোনো ফ্যাক্টরি চলবে না। যতক্ষণ ফ্যাক্টরি চলবে, ততক্ষণ ইটিপি চলবে—এই ব্যবস্থায় নিয়ে আসার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
শিল্পকারখানার পরিবেশগত ত্রুটি দূর করার বিষয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। আশপাশের মানুষের জন্য পরিবেশ ভালো রাখার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সবার রয়েছে উল্লেখ করে কাজী রওনাকুল ইসলাম বলেন, প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে এসে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে।
পাঁচটি খালে তীর সংরক্ষণ ও ওয়াকওয়ে
বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের অর্থায়নে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের আওতায় এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড প্রকল্পটির বাস্তবায়ন করছে।
প্রকল্পের আওতায় নারায়ণগঞ্জের রূপায়ণ টাউনের পেছনের ভূঁইঘর ক্যানেলপাড়, শাহীবাজার, পিলকুনি পেয়ারাবাগান, লাকীবাজার ওয়াপদা সেতু, ধনকুন্ড-পূর্ব কদমতলী, জালকুড়ি তালতলা, আদমজীনগর পাম্প হাউস এলাকা ও শিমরাইল হীরাঝিল এলাকায় পাঁচটি খালের তীর সংরক্ষণ, প্রায় ৬ হাজার ২০২ মিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণ এবং বনায়ন করা হচ্ছে।






