স্মৃতির দেয়ালে অবহেলার চিহ্ন
- সন্ধ্যা নামলেই পরিণত হয় মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে

নবাবগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন আবর্জনার ভাগাড়
ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা সদরের ব্যস্ত বাজারের এক পাশে দাঁড়িয়ে আছে বহুতল একটি ভবন। বাইরে থেকে দেখলে বোঝার উপায় নেই, এটি মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নির্মিত একটি কমপ্লেক্স। ভবনের চারপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বাজারের ময়লা-আবর্জনা, ভেতরে ভাঙচুরের চিহ্ন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যা নামলে ভবনটি পরিণত হয় মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে। প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনটি দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় এখন অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ১ কোটি ৭৯ লাখ ১৩ হাজার ৮১৫ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় নবাবগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন। ২০১৭ সালের অক্টোবরে প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাসিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন কারণে নিয়মিত ব্যবহার করা হয়নি ভবনটি।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের তথ্য বলছে, নির্মাণের পর থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত শুধু কয়েকটি জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠান ছাড়া ভবনটি অধিকাংশ সময়ই কার্যত অব্যবহৃত ছিল।
নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না থাকায় ভবনের বিভিন্ন কক্ষ, আসবাবপত্র ও অবকাঠামো নষ্ট হতে শুরু করেছে। চারপাশে জমেছে বাজারের ময়লা-আবর্জনা।
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর ভবনের ভেতরে মাদকসেবীদের আনাগোনা দেখা যায়। ফলে যে ভবন মুক্তিযোদ্ধাদের কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হওয়ার কথা ছিল, সেটিই এখন পরিত্যক্ত স্থাপনার চেহারা নিয়েছে।
এর মধ্যেই ২০১৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতাদের ভাষ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দুর্বৃত্তরা ভবনে হামলা চালায়। ভাঙচুর করা হয় দরজা, জানালা, গ্রিল, ফ্যান ও বিভিন্ন আসবাবপত্র। তাদের অভিযোগ, প্রায় ৩০০টি ভিজিটিং চেয়ারসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রীও নিয়ে যাওয়া হয়। এসব ঘটনার পর ভবনটি কার্যত ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের যুগ্ম আহ্বায়ক ও মুক্তিযুদ্ধকালীন কমান্ডার আব্দুস সালামের ভাষায়, ‘৫ আগস্টের পর কমপ্লেক্স ভবনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ভবনটি এখন ব্যবহার উপযোগী নয়। সংস্কারের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একাধিকবার আবেদন করেছি আর্থিক সহযোগিতা চেয়ে। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পেলে ভবনটি আবার ব্যবহার করা সম্ভব হবে।’
তবে স্থানীয় প্রশাসন বলছে, উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ভবনটি সংস্কারের। নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলরুবা ইসলামের ভাষ্য, ভবনটি সংস্কারের জন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছে চাওয়া হয়েছে আর্থিক সহায়তা। বরাদ্দ পাওয়া গেলে শুরু করা হবে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ।






