পদ্মায় নৌকাডুবি : দুই দিন পর মিলল বাবা-ছেলের মরদেহ

পদ্মায় ডুবে মারা যাওয়া বাবা-ছেলের স্বজনদের আহাজারি। ছবি: আগামীর সময়
দুই দিন ধরে পদ্মার বুকে চলছিল অপেক্ষা, উৎকণ্ঠা আর অনুসন্ধান। স্বজনদের আশা, ফিরে পাবেন পরিবারের দুই সদস্যকে। অবশেষে পদ্মা ফিরিয়ে দিল ডুবে যাওয়া বাবা-ছেলেকে, তবে নিথর।
রাজশাহীর পদ্মা নদীতে নৌকা ডুবে নিখোঁজ মাঝি কাওসার আলী (৬০) ও তার ছেলে জিয়ারুল হকের মরদেহ আজ সকালে উদ্ধার করেছে নৌ-পুলিশ। কুষ্টিয়ার পাকশী সেতুর কাছে পদ্মা থেকে পাওয়া গেছে কাওসারের এবং রাজশাহীর পবা উপজেলার সাতবাড়িয়া চর এলাকায় মিলেছে জিয়ারুলের মরদেহ।
নৌ-পুলিশ রাজশাহী অঞ্চলের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানালেন, গত মঙ্গলবার দুর্ঘটনার পর থেকেই নৌ-পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নদীতে তল্লাশি চালায়। তীব্র স্রোতে মরদেহ দুটি দুর্ঘটনাস্থল থেকে অনেক দূরে ভেসে যায়।
বৃহস্পতিবার সকালে পাকশী সেতুর পদ্মা নদীতে মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে নৌ-পুলিশ গিয়ে সেটি উদ্ধার ও শনাক্ত করে। কয়েক ঘণ্টা পর দুপুর ১টার দিকে রাজশাহীর পবার সাতবাড়িয়া চর এলাকার নদীতে আরেকটি মরদেহ ভাসতে দেখা যায়। সেটিও উদ্ধারের পর শনাক্ত করে নৌ-পুলিশ।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে দেহ দুটি পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কাওসারের বাড়ি রাজশাহীর কাটাখালী থানার শ্যামপুর শান্তিনগর এলাকায়। নৌকা চালিয়েই চলত তার সংসার। গত মঙ্গলবার দুপুরে চর মাজারদিয়ার এলাকা থেকে আট যাত্রী ও ঝাউগাছবোঝাই করে নৌকাটি লালন শাহ মুক্তমঞ্চের উদ্দেশে রওনা দেয়। মাঝনদীতে প্রচণ্ড ঢেউয়ে ডুবে যায় সেটি।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা ছয়জনকে জীবিত উদ্ধার করে। নৌকার মাঝি কাওসার ও তার ছেলে জিয়ারুলকে উদ্ধারে দুদিন ধরে চলছিল অভিযান।






