খুলনা বিভাগে ১৬ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাস করেনি কেউ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় খুলনা বিভাগে (যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীন) ১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি।
শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে শিক্ষা বোর্ড। প্রয়োজনে এসব প্রতিষ্ঠানের অধিভুক্তি নবায়ন বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।
যেসব প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থী পাস করেনি সেগুলো হলো কুষ্টিয়ার হাজী নুরুল ইসলাম কলেজ ও জগন্নাথপুর আইডিয়াল কলেজ, মেহেরপুরের মোরেকা জাগরণ কলেজ, ঝিনাইদহের মল্লিক শহিদুল ইসলাম কারিগরি কলেজ, খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, খুলনা মডেল মহিলা কলেজ, খুলনা ইনডিপেনডেন্ট আইডিয়াল কলেজ, খুলনার কপিলমুনি সহচারী বিদ্যামন্দির, কয়রা শাকবাড়িয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ, রূপসার কমরেড রতন সেন কলেজিয়েট গার্লস কলেজ, মাগুরার বুজরুক শ্রীকুন্দি কলেজ ও গোপীনাথপুর এম এ খালেক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, যশোরের সবুজ পল্লী কলেজ, সাতক্ষীরার ইসলামিয়া মহিলা কলেজ ও এ কে ফজলুল হক এমসিএ কলেজ এবং নড়াইলের মাকরাইল করিম খালেক সোলায়মান ইনস্টিটিউট ও কুষ্টিয়ার জগন্নাথপুর আইডিয়াল কলেজ।
খুলনার ডুমুরিয়া মডেল মহিলা কলেজ থেকে এবার মাত্র তিনজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছে।
কলেজটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন বলেন, `তাদের প্রতিষ্ঠানটি নন-এমপিওভুক্ত। শিক্ষকরা বেতন-ভাতা না পাওয়ায় অনেকটা অমনোযোগী হয়ে পড়েছেন।' অন্যদিকে, শিক্ষার্থীরাও নিয়মিত ক্লাসে আসে না। ফলে পাঠদান ও শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হয়।
খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলস স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কেউ পাস করতে পারেনি।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক শাহিনা বেগম বলেন, ‘এটি নতুন ও নন-এমপিওভুক্ত কলেজ। তবে শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার কারণ সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানাতে চাননি।’
এ ব্যাপারে খুলনা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এস এম ছায়েদুর রহমান বলেন, ‘শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশিরভাগ এমপিও ভূক্ত না। ফলে শিক্ষকরা ঠিকমত কলেজে আসে না। অনেক সাবজেক্টের শিক্ষকও নেই। যার কারণে শতভাগ ফেল করেছে।’
এ বিষয়ে যশোর শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক ড. আব্দুল মতিন বলেন, ‘যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি, সেসব প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানগুলোর অধিভুক্তি নবায়ন বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।’



