শ্যামনগর
প্রতিমা বিসর্জন দেখতে গিয়ে বিষাক্ত অ্যালকোহল পান, চারদিন পর মৃত্যু

দীপুরাজ হাউলি
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জন দেখতে গিয়ে বিষাক্ত অ্যালকোহল পান করার চার দিন পর দীপুরাজ হাউলি (১৩) নামে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।
গতকাল রবিবার রাত ১১টার দিকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়।
দীপুরাজ শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়নের আড়পাঙাশিয়া গ্রামের গৌতম হাউলির ছেলে। সে আড়পাঙাশিয়া প্রিয়নাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দেবাশীষ জোয়ারদার জানিয়েছেন, গত বুধবার সন্ধ্যার পর খোলপেটুয়া নদীতে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জনের অনুষ্ঠান দেখতে বন্ধুদের সঙ্গে ট্রলারে ওঠে দীপুরাজ। এ সময় সে অ্যালকোহল পান করে। বাড়ি ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়লে পরদিন সকালে তাকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে বৃহস্পতিবার রাতে তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার রাতে তার মৃত্যু হয়।
শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাকির হোসেন জানান, গত বৃহস্পতিবার সকাল দশটার দিকে দীপুরাজকে জরুরি বিভাগে আনা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তার অতিরিক্ত বমি হচ্ছে। অতিমাত্রায় অ্যালকোহল জাতীয় কোনও পদার্থ পানের ফলে অতিরিক্ত বমি হওয়ায় তার অবস্থার অবনতি হচ্ছিল। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। চিকিৎসক বললেন, 'তার অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। আজ জানতে পারলাম, সে মারা গেছে।'
স্থানীয় বাসিন্দা সমীর জোয়ারদার জানান, ধারণা করা হচ্ছে, দীপুরাজ যে অ্যালকোহল পান করেছিল, তা হোমিওপ্যাথিক ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হলেও বিষাক্ত ছিল। চিকিৎসকদের কাছ থেকে তিনি জেনেছেন, ওই পদার্থ পানের কারণে শিশুটির খাদ্যনালি ও পাকস্থলী পুড়ে গিয়েছিল।
এ বিষয়ে জানতে শ্যামনগর থানার ওসি সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. পিয়ার উদ্দিন শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, 'আমি হাসপাতালে ছিলাম, আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না।'



