প্রাক্তন স্বামীর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে স্ত্রীর একাধিক অভিযোগ

ছবি: আগামীর সময়
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে প্রাক্তন স্বামীর বিরুদ্ধে প্রতারণা, সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ ও ভরণপোষণ না দেওয়া এবং জমি দখলের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জেসমিন আক্তার ডলি। আজ রবিবার বিকালে গৌরীপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় তার তিন মেয়ে উপস্থিত ছিলেন।
অভিযুক্ত মঞ্জুরুল হক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেডিকেল কোরের অবসরপ্রাপ্ত সদস্য। তিনি উপজেলার সদর ইউনিয়নের কোণাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
লিখিত বক্তব্যে জেসমিন আক্তার ডলি দাবি করেন, ১৯৯৯ সালে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় প্রতারণার মাধ্যমে তাকে বিয়ে করেন মঞ্জুরুল হক। প্রথম কন্যা সন্তানের জন্মের পর দ্বিতীয় ও চতুর্থবার কন্যাসন্তান গর্ভে এলে জোরপূর্বক গর্ভপাত করানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরে তাদের আরও তিন কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। বর্তমানে তাদের চার মেয়ে রয়েছে।
তার অভিযোগ, ২০২২ সালে যৌনাঙ্গ সংকুচিত করার কথা বলে গৌরীপুর পৌর শহরের বাড়ীওয়ালা পাড়ায় অবস্থিত 'আছিয়া ডেন্টাল ক্লিনিকে' তার শরীরে অবৈধভাবে অস্ত্রোপচার করা হয়। এতে তিনি শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন বলে দাবি করেন।
জেসমিন আক্তার ডলির ভাষ্য, ২০২২ সালে তার অনুমতি ছাড়াই মঞ্জুরুল দ্বিতীয় বিয়ে করেন। পরে ২০২৩ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। বর্তমানে চার মেয়ে তার সঙ্গেই থাকেন। তিনিও পরে অন্যত্র বিয়ে করেছেন।
তিনি জানালেন, বড় মেয়ে দেশের বাইরে একটি মেডিকেল কলেজে পড়ছেন। অন্য তিনজন ময়মনসিংহের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত। কিন্তু মঞ্জুরুল হক সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ ও ভরণপোষণ দিচ্ছেন না।
এ ছাড়া পৌর শহরের ঘোষপাড়ায় তার নামে থাকা ৩৫ শতক জমি বিক্রি করতে গেলে মঞ্জুরুল হক বাধা দিয়ে জমি দখল করে নেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। উল্টো তার বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলাও করা হয়েছে বলে দাবি করেন। বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানান তিনি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মঞ্জুরুল হক। তিনি বললেন, ‘গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সন্তানদের লেখাপড়া ও ভরণপোষণের খরচ তিনি বহন করেছেন।
তার দাবি, জেসমিন আক্তার ডলি প্রতারণার মাধ্যমে তার কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা নিয়েছেন। এ কারণেই তিনি আর খরচ দিচ্ছেন না।
জমির বিষয়ে মঞ্জুরুল হক বললেন,চাকরিরত অবস্থায় জমি কেনার জন্য তিনি স্ত্রীর কাছে টাকা পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু তার নামে দলিল না করে স্ত্রীর নামে দলিল করা হয়। জমি ফেরত পেতে তিনি আদালতে মামলা করেছেন।




