ভূরুঙ্গামারীতে স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও হয়নি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন

ছবি: আগামীর সময়
স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় এখনো নির্মিত হয়নি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন। ফলে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে এবং চরম ঝুঁকিতে রয়েছেন উপজেলার সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ।
সম্প্রতি ভূরুঙ্গামারী বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০৫টি দোকান পুড়ে যায়। এতে প্রায় ১৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিজস্ব ফায়ার স্টেশন না থাকায় প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরের নাগেশ্বরী থেকে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। এতে মূল্যবান সময় নষ্ট হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যায়।
গণপূর্ত বিভাগ সূত্র জানায়, ২০১৩ সালে ভূরুঙ্গামারীতে ফায়ার স্টেশন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বরাদ্দ, জনবল, গাড়ি ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত থাকলেও জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সাল থেকে কয়েক দফা জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিভিন্ন জটিলতায় তা বাস্তবায়ন হয়নি। দীর্ঘসূত্রতায় প্রস্তাবিত জমির মালিকানা পরিবর্তন হয়েছে এবং সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণ শুরু হয়েছে। এ কারণে প্রকল্প বাস্তবায়ন আরও জটিল হয়ে পড়েছে। এদিকে জমির মূল্যও বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০২৩ সালে এক একর জমির প্রাক্কলিত মূল্য ছিল ১ কোটি ৩৮ লাখ ৯৭ হাজার ৮০০ টাকা, যা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৪৯ লাখ ১৪ হাজার ৭০০ টাকায়।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল হক তারেক বললেন, এক একর জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব পাঠানো হলেও সড়ক ও জনপথ বিভাগের তিন শতক জমি অন্তর্ভুক্ত থাকায় নতুন করে অতিরিক্ত তিন শতক জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব পাঠাতে হবে।
কুড়িগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক এনামুল হক জানান, প্রস্তাবটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেব নাথ বললেন, এক একর জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে। এখন অতিরিক্ত তিন শতক জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাবও পাঠানো হবে।





