কেশবপুরে ধীরাজ ভট্টাচার্যের ১২১তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন

ছবি: আগামীর সময়
যশোরের কেশবপুরে উপমহাদেশের প্রখ্যাত চলচ্চিত্রাভিনেতা ধীরাজ ভট্টাচার্যের ১২১তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে আলোচন সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বসুন্ধরা শুভসংঘের কেশবপুর উপজেলা শাখা।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে কেশবপুরের ঐতিহ্যবাহী পাঁজিয়া গ্রামের প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পাঁজিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বসুন্ধরা শুভসংঘের কেশবপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অসীম কুমার ঘোষের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন ধীরাজ ভট্টাচার্যের জীবনীগ্রন্থের লেখক সহকারী অধ্যাপক তাপস মজুমদার। পাঁজিয়া সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংসদের সহসম্পাদক মানব মণ্ডলের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক উজ্জ্বল ব্যানার্জী, পাঁজিয়া সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংসদের সভাপতি নজরুল ইসলাম খান, বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক সুব্রত চক্রবর্তী এবং অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী বিদিশা ব্যানার্জী বিন্দু।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘের কেশবপুর শাখার নির্বাহী কমিটির সদস্য নুরুল ইসলাম খান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য স্বস্তিকা ঘোষ, সাংবাদিক রায়হান জনিসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, ধীরাজ ভট্টাচার্য ১৯০৫ সালের ৫ নভেম্বর কেশবপুরের পাঁজিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। এই বিদ্যালয়েই তাঁর শিক্ষাজীবনের হাতেখড়ি। দেশভাগের আগে পরিবারের সঙ্গে তিনি কলকাতায় চলে যান। সেখানে পুলিশে চাকরির পাশাপাশি চলচ্চিত্রে অভিনয় ও সাহিত্যচর্চায় খ্যাতি অর্জন করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ ‘যখন পুলিশ ছিলাম’ ও ‘যখন নায়ক ছিলাম’।
বক্তারা আরও বলেন, পুলিশে চাকরির সুবাদে ধীরাজ ভট্টাচার্য চট্টগ্রামে বদলি হয়ে আসেন। পরে তাকে টেকনাফে পাঠানো হয়। সেখানে মগ রাজার কন্যা মাথিনের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে শেষ পর্যন্ত মাথিনকে বিয়ে না করে তিনি কলকাতায় ফিরে যান। কথিত আছে, ধীরাজের ফিরে না আসায় বিরহে টেকনাফ থানার কূপের পাশে অনশন করে মাথিনের মৃত্যু হয়। পরবর্তী সময়ে কূপটি ‘মাথিনের কূপ’ নামে পরিচিতি পায়।
কলকাতায় ফিরে ধীরাজ ভট্টাচার্য চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন। নায়ক ও খলনায়ক—উভয় চরিত্রেই অভিনয় করে তিনি দর্শকদের হৃদয়ে স্থান করে নেন।
বক্তারা বলেন, পাঁজিয়ার এই কৃতী সন্তানকে নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত করে তুলতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিষ্ঠানের সাবেক কৃতী শিক্ষার্থীর জীবন ও কর্ম সম্পর্কে জানতে পারে। আলোচনা সভা শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।



