নারায়ণগঞ্জ
শ্রমিক আন্দোলনে নিষিদ্ধ সংগঠনের উসকানি, পুলিশের মামলায় আসামি ১৫০০

রাজধানী ঢাকার মতো নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন কারাখানা শ্রমিকরাও আন্দোলনে নেমেছেন। ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড ও সংঘাত উসকে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে মামলায়। এতে ২১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও এক হাজার থেকে দেড় হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলাটি করেন পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মিলন ফকির। এ ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার তাদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন- ফতুল্লা মডেল থানার লামাপাড়ার মফিজুল ইসলামের ছেলে মো. শামীম হাসান (২৮), কোতালেরবাগ বউ বাজার এলাকার বিল্লাল হোসেনের ছেলে মো. মামুন (২৬) এবং ফতুল্লা রেলস্টেশন এলাকার বাচ্চু মিয়ার ছেলে মো. ওমর ফারুক (৩৮)।
এ ছাড়া গ্রেপ্তার হয়েছেন রামারবাগ এলাকার ইমান তৌফিকের ছেলে ইমান ইমন (২৬), কোতালেরবাগ এলাকার প্রয়াত লিয়াকত হোসেনের ছেলে শাহিন আহম্মেদ এবং কায়েমপুর এলাকার আক্তারুজ্জামানের ছেলে আতিকুর রহমান (২৫)।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার ছয়জনকে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহারে নাম থাকা অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ফতুল্লার কাঠেরপুল এলাকার যুবলীগ নেতা আজমত আলী, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মোস্তফা কামাল এবং কার্যকরী সদস্য মজিবর।
এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি টিপু সুলতান, মোফাজ্জল হোসেন চুন্নু, রাকিব হোসেন, ওয়াসিম, রতন, মো. রাকিব এবং ছাত্রলীগ নেতা সোহাগ ও সেলিমের নাম রয়েছে।
প্রজন্মলীগের ফতুল্লা থানা শাখার সহসভাপতি হিসেবে পরিচিত জনিসহ আরও কয়েকজনের নামও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশের এজাহার অনুযায়ী, গত ৩ নভেম্বর দুপুর আড়াইটার দিকে ফতুল্লার বিভিন্ন শিল্পকারখানার শ্রমিকেরা একত্রিত হন। শিবু মার্কেট, কাঠেরপুল ও ইরান টেক্সটাইল এলাকার আবির ফ্যাশন, পলমল গার্মেন্টস, মাইক্রো ফাইবার, মেট্রো গার্মেন্টস, টাইম সোয়েটার ও মডার্ন গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন কারখানার শ্রমিক এতে অংশ নেন।
পরে তারা চাষাঢ়া-সাইনবোর্ড লিংক রোডের শিবু মার্কেট থেকে ফতুল্লা স্টেডিয়াম পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করেন।
এজাহারে বলা হয়েছে, বেতন বৃদ্ধির দাবিকে সামনে রেখে শ্রমিকদের সংগঠিত করার পেছনে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ইন্ধন ও উসকানি ছিল। এর মাধ্যমে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা, সরকার উৎখাতের চেষ্টা এবং দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার পরিকল্পনা ছিল বলেও অভিযোগ করেছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য, শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে নিতে প্রথমে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সমঝোতার চেষ্টা করা হয়।
তবে পরে শ্রমিকদের একটি অংশ সড়কে টায়ারসহ বিভিন্ন সামগ্রীতে আগুন জ্বালিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ সাইনবোর্ডের দিকে এগিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়।
পুলিশ বলছে, এ সময় তাদের নির্দেশনা অমান্য করে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। ইটের আঘাতে কনস্টেবল নাঈম ও কনস্টেবল সাগর আহত হন। এ ছাড়া উৎসব ও বন্ধন পরিবহনসহ কয়েকটি যানবাহনের কাচ ভাঙচুরের অভিযোগও আনা হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে পুলিশ ও শিল্প পুলিশের সদস্যরা বিভিন্ন গ্যাসগান থেকে মোট ৮৩ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর মধ্যে ফতুল্লা ও নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ, শিল্প পুলিশ এবং মুন্সিগঞ্জে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের ব্যবহৃত গ্যাসগান থেকে এসব টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উসকানি ও সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে।



